নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ এবং জোর করে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক প্রভাবশালী প্রোমোটার। ধৃতের নাম কল্যাণ সরকার। নির্যাতিতার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাতে টালিগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁকে জালে তুলেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মারধর এবং বিশ্বাসভঙ্গ-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৯ সালে কলকাতার এক অভিজাত ক্লাবে ওই প্রোমোটারের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল অভিযোগকারিণী তরুণীর। দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে ২০১৬ সালে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের একটি শপিং মলে দেখা করেন কল্যাণ। সেখানে নিজেকে ‘অবিবাহিত’ দাবি করে তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। এরপর একটি মন্দিরে নিয়ে গিয়ে সিঁদুর পরিয়ে তাঁকে ‘স্ত্রী’ হিসেবে গ্রহণ করার নাটক করেন ওই প্রোমোটার। অভিযোগ, এর পরেই শুরু হয় পৈশাচিক অত্যাচার।
পৈশাচিক অত্যাচারের খতিয়ান:
-
একাধিক হোটেলে ধর্ষণ: তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের নাম করে তাঁকে পুরীর একটি নামী হোটেলে নিয়ে গিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। এরপর ইএম বাইপাসের ধারের একাধিক হোটেলে নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
-
জোরপূর্বক গর্ভপাত: সম্পর্কের জেরে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাঁকে মারধর করে জোর করে গর্ভপাত করানো হয় বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করলে সামাজিক সম্মানহানির হুমকি দিয়ে তাঁকে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হত।
-
নির্যাতিতার বয়ান: অসহ্য অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে চলতি মাসেই টালিগঞ্জ মহিলা থানার দ্বারস্থ হন ওই তরুণী। তাঁর গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করার পাশাপাশি মেডিক্যাল টেস্টে ধর্ষণের প্রমাণ মেলায় পুলিশ কড়া পদক্ষেপ নেয়।
আদালতে সওয়াল-জবাব:
রবিবার ধৃত কল্যাণ সরকারকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে তাঁর আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য দাবি করেন, এই সম্পর্ক ‘সম্মতি’র ভিত্তিতে ছিল এবং এতদিন পর অভিযোগ কেন করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাল্টা সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল জানান, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন এই নিগ্রহ করা হয়েছে এবং এর সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পুলিশের হাতে রয়েছে। সওয়াল-জবাব শেষে আদালত অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।