নিউজ ডেস্ক: নাকা চেকিংয়ের সময় ট্রাফিক কনস্টেবলকে গাড়ি দিয়ে পিষে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। বেলেঘাটা মেট্রো স্টেশনের কাছে মা উড়ালপুলের মুখে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত ছাত্র আরহাম জুনেইদকে গ্রেপ্তার করেছে প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ। অভিযোগ, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত এক পুলিশ আধিকারিকের নাকেও সজোরে ঘুসি মারে ওই যুবক। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, জুনেইদ ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের মেধাবী ছাত্র এবং বর্তমানে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিজের গাড়ি নিয়ে ইএম বাইপাস হয়ে পার্ক সার্কাসে দাদুর বাড়ি যাচ্ছিল সে। উড়ালপুলে ওঠার মুখে নাকা পয়েন্টে কর্তব্যরত এক পুলিশ কর্মী তার গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি করতে চাইলে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, বাগবিতণ্ডার মাঝেই আচমকা গাড়ি চালিয়ে ওই কনস্টেবলকে চাপা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে জুনেইদ। গাড়ির চাকায় ওই পুলিশ কর্মীর পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
থানায় গিয়েও তাণ্ডব:
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য পুলিশ কর্মীরা ধাওয়া করে গাড়িটি আটকান এবং জুনেইদকে প্রগতি ময়দান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও অভিযুক্তের মেজাজ কমেনি। অভিযোগ, থানার ভেতরেই এক পুলিশ অফিসারের মুখে ঘুসি মারে সে, যার ফলে ওই অফিসারের নাকে গুরুতর চোট লাগে। এই জোড়া অপরাধের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালতে সওয়াল-জবাব:
রবিবার অভিযুক্তকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র সওয়াল-জবাব চলে।
-
অভিযুক্ত পক্ষের দাবি: জুনেইদের আইনজীবী সুব্রত সর্দার দাবি করেন, তাঁর মক্কেল পুলিশকে ধাক্কা দেয়নি। উল্টে থানায় নিয়ে গিয়ে তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এমনকি আদালতে তোলার আগে সঠিক মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
-
পুলিশের পাল্টা দাবি: সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, অভিযুক্তের মেডিক্যাল পরীক্ষায় মারধরের কোনও চিহ্ন মেলেনি। বরং কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জুনেইদের জামিনের আর্জি নাকচ করে তাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। মেধাবী ছাত্র হয়েও কেন এই ধরণের চরম উগ্র আচরণ করল ওই যুবক, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।