নিউজ ডেস্ক: অল্প সময়ে বিনিয়োগের ওপর কয়েক গুণ লাভের হাতছানি! সেই প্রলোভনে পা দিয়েই বিপুল অর্থ খোয়ালেন নিউটাউনের এক যুবক এবং এক বৃদ্ধা। পৃথক দুটি সাইবার প্রতারণার ঘটনায় তাঁরা সব মিলিয়ে প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা হারিয়েছেন বলে অভিযোগ। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় ইতিমধ্যেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতারিতরা। টাকা উদ্ধারের চেষ্টায় জোরদার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্য এখন মূলত প্রবীণরা হলেও, বিনিয়োগ সংক্রান্ত জালিয়াতির শিকার হচ্ছেন পেশাদার যুবকরাও। নিউটাউনের ৩৯ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে ফেসবুকে এক তরুণীর আলাপ হয়েছিল। ওই তরুণীই বিনিয়োগের টোপ দিয়ে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেয়। অল্প সময়ে ৩০ শতাংশ রিটার্নের লোভে পড়ে ওই যুবক কয়েক দফায় মোট ২৭ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু লভ্যাংশ তো দূর অস্ত, আসল টাকাও ফেরত না পেয়ে গত ১২ এপ্রিল পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৩ এপ্রিল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানান নিউটাউনেরই ৬২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, দুই ব্যক্তি নিজেদের ‘ফান্ড ম্যানেজার’ পরিচয় দিয়ে ফোন করে তাঁকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে। উচ্চ আয়ের আশায় ওই বৃদ্ধাও প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে ধাপে ধাপে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেন। পরে লভ্যাংশ না পাওয়ায় তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। দু’জনেই জাতীয় সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালেও অভিযোগ নথিভুক্ত করেছেন।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইদানীংকালে ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড’ বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত জালিয়াতি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কোনও অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করে বা ফোন কলের ওপর ভিত্তি করে বড় অঙ্কের লেনদেন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য যাচাই করা একান্ত প্রয়োজন। সঠিক নজরদারি ও সতর্কতা ছাড়া অনলাইনে অর্থ বিনিয়োগ করলে এই ধরণের বিপদ যে কোনও সময় ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ।