নিউজ ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই ভার্চুয়াল জগতের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর, প্ররোচনামূলক মন্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর প্রচার রুখতে আটঘাট বেঁধে নেমেছে তারা। রবিবার কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত ১১ হাজারেরও বেশি বিতর্কিত পোস্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই পোস্টগুলির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, সমাজমাধ্যম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না। তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) দ্বারা তৈরি কোনও বিভ্রান্তিকর পোস্ট নজরে এলে মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে তা সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, প্রচারে এআই নির্মিত কোনও ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করলে তাতে বাধ্যতামূলকভাবে ‘এআই নির্মিত’ (AI Generated) লেবেল লাগাতে হবে। ভোটারদের বিশ্বাসের অমর্যাদা ঘটে এমন কোনও কৃত্রিম প্রচারকে কড়া হাতে দমন করা হবে।
গত ১৫ মার্চ ভোট ঘোষণার পর থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কমিশনের নির্দিষ্ট পোর্টালে মোট ৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৯৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হল, এর মধ্যে ৯৬.০১ শতাংশ অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হয়েছে মাত্র ১০০ মিনিটের মধ্যে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৬ ধারা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সোশ্যাল মিডিয়া বা সংবাদমাধ্যমে ভোট সংক্রান্ত কোনও প্রচার বা প্রদর্শনী করা যাবে না। ভুয়ো তথ্যের জেরে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, তার জন্য একদল বিশেষজ্ঞ প্রতিনিয়ত নজরদারি চালাচ্ছেন। কোথাও কোথাও ইতিমধ্য়েই এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে ভার্চুয়াল দুনিয়াকে কলঙ্কমুক্ত রাখাই এখন কমিশনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।