নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে এ বার রণকৌশল বদলাল নির্বাচন কমিশন। কেবল নিচুতলার ‘ট্রাবল মঙ্গার’ বা দাগি অপরাধীদের ধরপাকড় করলেই যে শান্তি ফিরবে না, তা বিলক্ষণ বুঝেছেন ভিন রাজ্য থেকে আসা পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের নিশানায় এ বার এলাকার সেই সব ‘বিগ ফিশ’ বা রাঘববোয়ালরা, যাঁরা পর্দার আড়ালে থেকে গোটা অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণ করেন। কমিশনের নির্দেশে ইতিমধ্য়েই প্রতিটি থানা এলাকা থেকে এই প্রভাবশালী মাথাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, যা নিয়ে রীতিমতো কালঘাম ছুটছে পুলিশ অফিসারদের।
পুলিশ পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের দিন এলাকায় অশান্তি পাকানো, ভোটারদের ভয় দেখানো কিংবা বোমাবাজির নেপথ্যে মূল মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করেন এই রাঘববোয়ালরাই। তাঁদের নির্দেশেই হিস্ট্রি শিটাররা রাস্তায় নামে। এমনকি ভোটের আগের রাতে কোন এলাকায় কাকে পাঠিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হবে, তার ব্লু-প্রিন্টও তৈরি করেন এই প্রভাবশালীরা। তাই অশান্তির উৎসকেই সমূলে বিনাশ করতে এ বার তাঁদের আটক করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কোন থানায় কত জন এমন ‘বিগ ফিশ’ রয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তার রিপোর্ট দ্রুত জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে— ‘ভোট ম্যানেজার’। এলাকার প্রতিটি বুথের নাড়িনক্ষত্র যাঁদের নখদর্পণে, সেই ভোট ম্যানেজাররাই মূলত বিগ ফিশদের হয়ে ময়দানে কাজ করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কখন কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সেই সংকেত পৌঁছনোর দায়িত্বও তাঁদের। পুলিশ পর্যবেক্ষকরা এখন বিভিন্ন থানায় গিয়ে এই ভোট ম্যানেজারদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছেন এবং তাঁদের একটি পৃথক তালিকা জোগাড় করছেন। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, ভোটের দিন এই ‘প্রভাবশালী’ এবং তাঁদের অনুগামীদের কোনও ভাবেই বাইরে রাখা যাবে না।
ইতিমধ্য়েই বেশ কিছু নির্দিষ্ট নাম কমিশনের পক্ষ থেকে সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কতক্ষণের মধ্যে আটক করতে হবে, সেই সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। এর ফলে পুলিশের ওপর চাপ নজিরবিহীন ভাবে বেড়েছে। অপরাধীদের মাথার ওপর ছাতা হয়ে থাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলা অফিসারদের জন্য এই নির্দেশ পালন করা এখন বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের আগে অপরাধীদের কোমর ভাঙতে অল-আউট তল্লাশি শুরু করেছে প্রশাসন।