নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ২০ বছরের দাম্পত্য কলহের এক চূড়ান্ত মর্মান্তিক ও রক্তক্ষয়ী পরিণতির সাক্ষী থাকল মুর্শিদাবাদের বড়ঞা। রবিবার সকালে বড়ঞা থানার পছিপাড়া গ্রামে নিজের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হল এক দম্পতির নিথর দেহ। ঘরের মেঝেতে রক্তে ভেসে যাচ্ছিলেন স্ত্রী, আর বাড়ির চিলেকোঠায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেল স্বামীকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক অশান্তির জেরে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করার পর নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন স্বামী। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক বৃদ্ধাকে আটক করেছে পুলিশ।

মৃতদের নাম তাপসী দাস (৪২) ও তাপস দাস (৫১)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দুই দশক আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের দু’টি কন্যাসন্তানও রয়েছে। পেশায় দিনমজুর তাপসবাবুর সংসারে বিয়ের পর থেকেই খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে অশান্তি লেগে থাকত। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, তাপসবাবু প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে এসে স্ত্রীকে মারধর করতেন। শনিবার সন্ধ্যায় সেই বিবাদ চরম আকার ধারণ করে এবং গভীর রাত পর্যন্ত ঘর থেকে চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা যায়। রবিবার সকালে দীর্ঘক্ষণ বাড়ি নিস্তব্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা ঘরের ভেতর ঢুকে দেখেন, মেঝেতে পড়ে রয়েছে তাপসীদেবীর রক্তাক্ত দেহ। তাঁর মাথায় ও গলায় ধারাল অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে, আর পাশেই পড়ে রয়েছে রক্তমাখা একটি বটি। এরপর তল্লাশি চালাতেই দোতলার চিলেকোঠায় তাপসবাবুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

মৃতার ভাই শুভেন্দু দাসের অভিযোগ, জামাইবাবু প্রতিদিন নেশা করে দিদিকে মারধর করতেন। সেই অত্যাচারের জেরেই এ দিন দিদিকে খুন করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মৃতার বোন শিলা দাসের দাবি, এই খুনের ঘটনায় পরিবারের আরও কয়েকজনের ইন্ধন থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই বড়ঞা থানার পুলিশ দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। খুনের পেছনে অন্য কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা জানতে পরিবারের এক বৃদ্ধাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। তাপসবাবুর কাকা মদন দাসের কথায়, “দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল, কিন্তু তার এমন পরিণতি হবে কেউ ভাবেনি।” এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Share on Social Media