নিউজ ডেস্ক: বেলডাঙা হিংসা মামলায় ধৃত ১৫ জন অভিযুক্তের জামিন বাতিলের আবেদন নিয়ে এ বার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। নির্দিষ্ট ৯০ দিনের সময়সীমার মধ্যে চার্জশিট জমা দিতে না পারায় নিম্ন আদালত ওই অভিযুক্তদের জামিন দিয়েছিল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই সোমবার উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করল কেন্দ্রীয় এই সংস্থা। বেলডাঙার ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র (UAPA) মতো কঠোর ধারায় তদন্ত চললেও চার্জশিট পেশে বিলম্ব হওয়া এবং নিম্ন আদালতের সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন খারিজ করা নিয়ে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে।
গত ১৬ জানুয়ারি ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। দেহ গ্রামে পৌঁছনোর পর উত্তেজিত জনতা ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক প্রায় ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। চলে ব্যাপক পাথর বৃষ্টি, রেল পথও অবরোধ করা হয়। এমনকি কর্তব্যরত সাংবাদিকদের মারধর এবং তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। ২০ জানুয়ারি আদালত জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-কে দিতে পারে। সেই নির্দেশ মেনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তদন্তের দায়িত্ব সঁপে দেয় এনআইএ-র হাতে।
এনআইএ-র দাবি, ইউএপিএ-র মতো স্পর্শকাতর ধারায় তদন্ত শেষ করার জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন। নিম্ন আদালতে অতিরিক্ত আরও ৯০ দিনের সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি জানানো হয়েছিল, কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, আইনি সুবিধা নিয়ে ১৫ জন অভিযুক্ত জামিন পেয়ে যান। সোমবার হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় সংস্থার আইনজীবী জানান, তদন্ত চলাকালীন এই ভাবে অভিযুক্তরা মুক্তি পেলে তা তদন্তের ক্ষতি করতে পারে। এই জামিন বাতিলের আর্জি নিয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়েছে। এখন দেখার, উচ্চ আদালত এনআইএ-র এই যুক্তিতে সাড়া দিয়ে জামিন খারিজ করে কি না।