নিউজ ডেস্ক: ভরদুপুরে বর্ধমানের নবাবহাটে এক নার্সিংহোমে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার দুপুরে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত ওই নার্সিংহোমে আগুন লাগলে রীতিমতো বিভীষিকার সৃষ্টি হয়। আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন নার্সিংহোম কর্মীরা। তবে বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে স্থানীয় মানুষ ও পার্শ্ববর্তী নার্সিংহোমগুলির কর্মীদের তৎপরতায়। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরাই রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আসেন।
নার্সিংহোম সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় সেখানে ২০ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। রোগীদের যখন দুপুরের খাবার দেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখনই আগুন লাগার বিষয়টি নজরে আসে। মুহূর্তের মধ্যে হু হু করে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিল্ডিংয়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ইঞ্জিন। আগুন নেভানোর কাজ চলাকালীন ধোঁয়ার চোটে নার্সিংহোমের ভেতরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এক দমকলকর্মী। তাঁকে তড়িঘড়ি চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ধমান নার্সিংহোম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আনিসুর মণ্ডল জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ওই মুহূর্তে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন এলাকার লোকজন এবং পার্শ্ববর্তী নার্সিংহোমের কর্মীরা। তাঁরাই কাঁধে করে এবং স্ট্রেচারে শুইয়ে একে একে ২০ জন রোগীকে বের করে আনেন। রোগীদের আপাতত এলাকার অন্যান্য নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। মানবিকতার খাতিরে আনিসুরবাবু ঘোষণা করেছেন, “এই বিপদের দিনে রোগীদের কাছ থেকে কোনও টাকা-পয়সা নেওয়া হবে না। আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন রোগীদের সুস্থতা।” এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি না ঘটলেও নার্সিংহোমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।