নিউজ ডেস্ক: সময়ের চাকা ঘুরলে যে পরিবর্তনের রঙ কতটা ফিকে হতে পারে, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কেশপুরের ‘লালবাড়ি’। কয়েক বছর আগেও যে কোনও নির্বাচন মানেই যেখানে ছিল সাজ সাজ রব, সেই জামশেদ আলি স্মৃতি ভবন এখন আক্ষরিক অর্থেই নিঝুম। কয়েক দিন পরেই ভোট, অথচ সিপিএমের এই প্রধান কার্যালয়ে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় নেই, নেই সেই চেনা ব্যস্ততা। একদা যে বাড়ি থেকে ‘ভোট সেনাপতি’ ইন্তাজ আলির অঙ্গুলিহেলনে কেশপুরের নাড়িনক্ষত্র নিয়ন্ত্রিত হতো, সেখানে এখন পড়ে রয়েছে স্রেফ কিছু ধুলোমাখা খালি চেয়ার-টেবিল।
কেশপুরের এই প্রাক্তন লাল দুর্গে এখন শুধু জনবল নয়, প্রকট হয়েছে চরম আর্থিক অনটনও। দলীয় সূত্রের খবর, পার্টির ‘কমিউন’ চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। বাজার থেকে সামান্য ছোট মাছ আর ডাল-আলু সেদ্ধ দিয়েই কোনওমতে দিন কাটছে। এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দলের নিচুতলার কর্মীদের মুখে অন্ন তুলে দিতে দলের এক-দু’জন নেতা নিজেদের পরিবারের রেশনের চাল পর্যন্ত দিয়ে দিচ্ছেন। “আমাদের তো তৃণমূল বা বিজেপির মতো অঢেল টাকা নেই, স্রেফ লড়াইয়ের জেদটুকু সম্বল করেই টিকে আছি,”— ধরা গলায় জানালেন জনৈক বাম কর্মী।
সিপিএম প্রার্থী গুরুপদ মণ্ডল এলাকায় প্রচার শুরু করলেও তা মূলত ‘নমো নমো’ করে সারা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। সিপিএমের অভিযোগ, বহু এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি উভয় পক্ষের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। দলের জেলা কমিটির সদস্য সৈয়দ নিয়ামত হোসেনের দাবি, “আমাদের প্রার্থী সব জায়গায় যেতে পারছেন না। মানুষের মনে চাপা সন্ত্রাস রয়েছে, তাই অনেকেই প্রকাশ্যে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন।” অন্যদিকে, প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট শুভাশিস পাইন বলেন, “তৃণমূল বলছে আমরা নাকি বিজেপির সুবিধা করতে বেরিয়েছি, আবার বিজেপি বলছে আমরা হিন্দু এলাকায় প্রচার করে তৃণমূলের হাত শক্ত করছি। অথচ আমরা স্রেফ আমাদের বাম আদর্শের কথা বলতেই মানুষের কাছে যাচ্ছি।”
যদিও বাধার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা। তাঁর দাবি, “কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি, মানুষ উন্নয়নের সঙ্গেই আছে।” পাল্টা সুর চড়িয়ে বিজেপি নেতা তন্ময় ঘোষও বলেন, “বিজেপি কেন বাধা দেবে? কেশপুরের মানুষ পরিবর্তনের জন্য তৈরি, এ বার এখানে পদ্ম ফুটবেই।” তবে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে কেশপুরের সেই দাপুটে ‘লালবাড়ি’র বর্তমান রিক্ত চেহারা রাজনীতির মহলে এক গভীর বিস্ময় তৈরি করেছে। অতীতের সেই ব্যস্ততা আদেও ফিরবে কি না, তার উত্তর দেবে সময়।