নিউজ ডেস্ক: প্রকৃতির এক রাতের তাণ্ডবে নিঃস্ব হয়ে গেলেন নদীয়ার কয়েকশো কৃষক। রবিবার রাতে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে কার্যত ধুলোয় মিশে গিয়েছে বিঘার পর বিঘা কলার জমি। জেলার করিমপুর, থানারপাড়া, বারবাকপুর ও মুরুটিয়া এলাকায় কলার বাগানগুলিতে এখন শুধুই ধ্বংসের ছবি। কলার ছড়া-সহ উপড়ে পড়া গাছ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন চাষিরা। তাঁদের দাবি, সারের আকাশছোঁয়া দাম এবং বাড়তি খরচ সামলে সন্তানদের মতো আগলে রাখা বাগান এক মুহূর্তের ঝড়ে শেষ হয়ে গেল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝড় মোকাবিলা করতে কৃষকরা প্রতিটি কলার গাছের গোড়ায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা দিয়ে কেনা বাঁশের খুঁটি পুঁতে শক্ত করে বেঁধেছিলেন। কিন্তু ঝড়ের গতিবেগ এতই বেশি ছিল যে, সেই খুঁটি-সহ গাছগুলি ভেঙে পড়ে গিয়েছে। এক হতাশ চাষি বলেন, ‘‘বিশাল ক্ষতি হয়ে গেল আমাদের। যে ক’টি গাছ দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোতেও আর ফলন হবে না। এখন দেনা মেটাতে ঘর থেকে টাকা দিতে হবে।’’ কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিঘা প্রতি কলা চাষে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। সেই বিনিয়োগের পুরোটাই এখন মাটির তলায়।
সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ভাগচাষিরা। অন্যের জমি বিঘা প্রতি বছরে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকার চুক্তিতে নিয়ে তাঁরা চাষ করেছিলেন। লাভের আশায় বুক বাঁধলেও এখন জমির মালিকের টাকা কী ভাবে শোধ করবেন এবং নিজের পরিবারের অন্নসংস্থান কী ভাবে হবে, তা ভেবে কূল পাচ্ছেন না তাঁরা। সারের মূল্যবৃদ্ধির জেরে এমনিতেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছিল তাঁদের, তার ওপর এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় তাঁদের পথের ভিখারি করে দিয়েছে। দুর্গত কৃষকরা এখন সরকারি সাহায্যের জন্য প্রশাসনের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছেন।