নিউজ ডেস্ক: কেশপুরের শীর্ষা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ঘাসফুলের দলীয় অফিসের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে একটি জরাজীর্ণ শ্বেতশুভ্র যান। নম্বর প্লেটের ‘ডব্লুবি ৩৩’ লেখাটি আজও ইতিহাসের এক ধুলোমাখা অধ্যায়কে আঁকড়ে ধরে আছে। সময়ের নিয়মে আজ তা ‘অচল পয়সা’, কিন্তু ভোটের মরশুম আসতেই সেই ভাঙাচোরা অ্যাম্বুল্যান্সকে কেন্দ্র করে কেশপুরের অলিন্দে অলিন্দে ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। সাধারণ মানুষের কাছে যা এককালে ছিল জীবনদায়ী ভরসা, আজ তা শুধুই এক রক্তক্ষয়ী অতীতের ‘স্মারক’।
এলাকার প্রবীণদের স্মৃতিতে আজও অমলিন সেই দিনগুলো। বাম জমানায় যখন কেশপুর আর গড়বেতা রাজনৈতিক সংঘর্ষে ফুটছে, তখন এই অ্যাম্বুল্যান্সই ছিল খবরের শিরোনামে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, তৎকালীন ‘হার্মাদ বাহিনী’ এই গাড়িটিকে মানবিক কাজে নয়, বরং লাশ সরানো এবং আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত। এমনকি বেনাচাপড়ার কুখ্যাত কঙ্কালকাণ্ডেও এই অ্যাম্বুল্যান্সের যোগ ছিল বলে দাবি শাসকদলের। কেশপুরের তৃণমূল নেতা মলয় ঘোষ ও অনুপ রায়ের কথায়, “মানুষের উপকারের আড়ালে একসময় এই গাড়ি দিয়ে ভয়াবহ সব কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। পরিবর্তনের পর আইনি জটিলতার কারণেই ওটিকে আর রাস্তায় নামানো সম্ভব হয়নি।”
পাল্টা সুর চড়িয়েছে বাম শিবিরও। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য শুভাশিস পাইনের দাবি, “এই গাড়ি একসময় অগণিত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে। তৃণমূলের রাজনীতির শিকার হয়েই আজ এই দশা হয়েছে অ্যাম্বুল্যান্সটির। ওটিকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ফেলে রাখা হয়েছে, অথচ আজ এলাকায় একটিও অ্যাম্বুল্যান্স নেই। বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।” নেতাই থেকে ছোট আঙারিয়া— গত কয়েক দশকে কেশপুরের মাটি যে বহু রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছে, শীর্ষার এই আগাছায় ঢাকা গাড়িটি যেন তারই এক নীরব বয়ান। ভোট আসে, ভোট যায়; কিন্তু কেশপুরের রাস্তার ধারে পড়ে থাকা এই অ্যাম্বুল্যান্সটি আজও স্থানীয় মানুষের কাছে এক অপ্রকাশিত ইতিহাসের প্রতীক হয়েই দাঁড়িয়ে আছে।