নিউজ ডেস্ক: “কেউ কথা রাখেনি…।” কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত পঙ্ক্তিকেই এবার রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে তুলে ধরল কলকাতা বাড়িওলা সমিতি (ক্যালকাটা হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন)। সোমবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যের সমস্ত বাড়িওলাকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ‘নোটা’ (NOTA)-তে ভোট দেওয়ার আর্জি জানাল এই সংগঠন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, কোনও রাজনৈতিক দলই বাড়িওলাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে ভাবিত নয়, তাই প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ইভিএম-এর শেষ বোতামটিকেই বেছে নিতে চাইছেন তাঁরা।
সংগঠনের অন্যতম নেতা সুকুমার রক্ষিত জানান, কলকাতা ও রাজ্য মিলিয়ে প্রায় দশ হাজারেরও বেশি সংগঠিত সদস্য রয়েছেন তাঁদের। এর বাইরেও অগণিত বাড়িওলা একই বঞ্চনার শিকার। তাঁদের অভিযোগ, নিজের সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে গিয়ে উল্টে বাড়িওলাকেই অনেক সময় পুলিশি হয়রানি বা আইনি মারপ্যাঁচে ‘অপরাধী’ হয়ে যেতে হচ্ছে। সুকুমারবাবুর কথায়, “রাজ্যের অনেক আসনে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বা ‘ক্লোজ ফাইট’ হওয়ার সম্ভাবনা। সেখানে বাড়িওলারা জোটবদ্ধ হয়ে নোটায় ভোট দিলে প্রার্থীরা বুঝতে পারবেন ভোটার হিসেবে আমাদের গুরুত্ব ঠিক কতটা।”
বঞ্চনার ফিরিস্তি দিয়ে এদিন সাত দফা দাবি পেশ করেছে সংগঠনটি। সম্পত্তির অধিকারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভাড়ার হার নির্ধারণ এবং সংস্কারহীন পুরোনো ‘রেন্ট কন্ট্রোল’ ব্যবস্থার বিলোপ— এই বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সদস্যদের দাবি, শ্যামবাজারের মতো হেরিটেজ এলাকাতেও প্রোমোটার চক্র ও রাজনৈতিক নেতাদের যোগসাজশে সম্পত্তি জবরদখল হচ্ছে। তাঁদের সাফ কথা, ভোট বয়কট নয়, বরং জোটবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ‘নোটা’ টিপেই নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেবেন তাঁরা। ভোটের পর দাবি পূরণ না হলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে এই সংগঠন।