নিউজ ডেস্ক: ভোটের আবহে এ যেন এক চেনা ঘরওয়াপসি। তবে এবার সেই প্রত্যাবর্তনের পথ প্রশস্ত করতে রেলের ‘সামার স্পেশাল’ ট্রেন আসতেই তুঙ্গে উঠেছে তৃণমূল-বিজেপি তর্জা। মালদহ থেকে মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার থেকে দিনাজপুর— ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া হাজার হাজার শ্রমিক এখন ব্যাগপত্তর গুছিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন সাঁতরাগাছি বা হাওড়া স্টেশনে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট-বাক্সই এবার ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর।
বিজেপির দাবি, পেটের তাগিদে ঘর ছাড়া এই বিশাল শ্রমজীবী মানুষ এবার ব্যালটে শাসকদলকে যোগ্য জবাব দেবেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের শ্লেষাত্মক মন্তব্য, “খুব শীঘ্রই পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে ৭১টি ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই শ্রমিকরা এবার শাসকদলকে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ দিতেই আসছেন।” পদ্ম শিবিরের যুক্তি, পরিবারের থেকে দূরে ভিন রাজ্যে কষ্টে থাকা এই শ্রমিকদের ক্ষোভ এবার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেই যাবে। এমনকি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় যাঁরা দ্রুত ফিরছেন, তাঁরাও পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করবেন বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।
পাল্টা আক্রমণে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। বিদায়ী সরকারের মন্ত্রী অরূপ রায়ের দাবি, “পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম করে আসলে ভিন রাজ্যের ভোটারদের ঢুকিয়ে ভোট করানোর পরিকল্পনা করছে বিজেপি। বিহারে যে কায়দায় ভোট হয়েছিল, বাংলায় সেই ছক কাজে আসবে না।” তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আলাদা বোর্ড গঠন করেছে এবং আর্থিক ভাতার ব্যবস্থা করেছে, তাই শ্রমিকরা ঘরের সরকারের পাশেই থাকবেন। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ব্যাগ মাথায় ক্লান্ত শ্রমিকদের ফেরার দৃশ্যে যেমন স্বজন-মিলনের সুর আছে, তেমনই বুথের লড়াইয়ে তাঁরা কার দিকে পাল্লা ভারি করবেন, তা নিয়ে এখন সরগরম বাংলার রাজনীতি।