নিউজ ডেস্ক: গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে সুদূর নাগপুর থেকে ঘরের পথে রওনা হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই পথই তাঁর শেষ যাত্রায় পরিণত হলো। বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার তাগিদে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের অসংরক্ষিত কামরায় প্রচণ্ড ভিড় ও গরমে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হলো এক পরিযায়ী শ্রমিকের। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডাউন গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেসে ঘটা এই ঘটনায় রেলের নিরাপত্তা ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

শৌচাগারের সামনে বসেই সফর: রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম সুমিত মাতব্বর (৩১)। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর গোপালপুর এলাকায়। পেশায় রাজমিস্ত্রি সুমিত আগে দক্ষিণ ভারতে কাজ করলেও সম্প্রতি নাগপুরের একটি নির্মাণ সংস্থায় যোগ দিয়েছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে ভোট দিতে বাড়ি ফেরার জন্য গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেসের জেনারেল কামরায় উঠেছিলেন তিনি। সহযাত্রীদের দাবি, কামরায় পা ফেলার জায়গা ছিল না। তিল ধারণের জায়গা না পেয়ে দীর্ঘ পথ শৌচাগারের সামনে বসেই যাত্রা করতে বাধ্য হন সুমিত।

মরণযন্ত্রণার সাক্ষী বন্ধুরা: মৃতের ভাই রাজীব মাতব্বর জানান, খড়্গপুর স্টেশনে ঢোকার সময় থেকেই সুমিতের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। প্রচণ্ড গরম আর গাদাগাদি ভিড়ে দমবন্ধ করা পরিস্থিতিতে তাঁর পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। কামরা থেকে তাঁকে বের করার চেষ্টাও ব্যর্থ হয় ভিড়ের চাপে। অভিযোগ, সাঁতরাগাছি ঢোকার আগে সিগন্যালের অপেক্ষায় ট্রেনটি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় বিনা চিকিৎসাতেই ধুঁকতে ধুঁকতে ট্রেনের মেঝের ওপর প্রাণ হারান ওই যুবক।

তদন্তে রেল পুলিশ: সাঁতরাগাছি স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছালে সুমিতকে দ্রুত রেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সাঁতরাগাছি জিআরপি দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক অনুমান, প্রচণ্ড অস্বস্তি ও দীর্ঘ সফরের ক্লান্তিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার যে ঢল নেমেছে, তা সামাল দিতে রেলের তরফে পর্যাপ্ত স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা কেন নেই, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যাত্রীদের একাংশ।

Share on Social Media