নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগেই এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সাক্ষী রইল কলকাতা। আম জনতার তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া টের পেয়ে অবশেষে পিছু হটল নির্বাচন কমিশন। ভোটের ঠিক দু’দিন আগে থেকে ভোটগ্রহণের দিন পর্যন্ত বাইক চলাচলের ক্ষেত্রে যে কার্যত ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছিল, তা ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হল কমিশন। বৃহস্পতিবার রাতে এক সংশোধিত নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, শর্তসাপেক্ষে এবার থেকে মোটরবাইক চালকদের ছাড় দেওয়া হবে।
জনরোষ ও কমিশনের সিদ্ধান্ত বদল: বুধবার কমিশনের জারি করা প্রথম নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইকের পিছনে কাউকে বসানো যাবে না এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় আছড়ে পড়ে জনরোষ। অফিসযাত্রী, অ্যাপ-বাইক চালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ভোটের নামে সাধারণ মানুষকে কেন দুর্ভোগের মুখে ফেলা হচ্ছে?’ বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা জানান, তাঁদের অফিস থেকে বেরতেই সন্ধ্যা ৬টা বেজে যায়, তাঁরা বাড়ি ফিরবেন কীভাবে? এই তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েই কমিশন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত বদল করে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নতুন নির্দেশিকায় কী কী শর্ত? কমিশনের দেওয়া নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অফিসযাত্রীরা তাঁদের অফিসের সচিত্র পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখলে বাইক চালাতে পারবেন। ফুড ডেলিভারি ও পণ্য হোম ডেলিভারির মতো জরুরি পরিষেবাও সচল রাখা হচ্ছে। ভোটের দিনেও শর্তসাপেক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া-আসার অনুমতি মিলবে। অ্যাপ-ভিত্তিক বাইক চালক ও ফুড ডেলিভারি বয়দের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। ভোটের মুখে কমিশনের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হতে পারে ভেবেই এই ‘U-turn’ নেওয়া হয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত।
ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি: যদিও কমিশনের সংশোধিত নির্দেশিকার পরেও আম জনতার একাংশের মনে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। অনেকে বাইক বা স্কুটার নিয়ে বাজারে যান বা সান্ধ্যকালীন ভ্রমণের পর বাড়ি ফেরেন। তাঁদের কাছে কোনও অফিসের পরিচয়পত্র থাকার কথা নয়। তাহলে তাঁরা কি সন্ধ্যায় গাড়ি নিয়ে বেরতে পারবেন না? শ্যামবাজারের এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী গোপীনাথ সেনগুপ্ত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এ তো আম জনতার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ! প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্যও কি আমাদের কমিশনের দয়ার ওপর নির্ভর করতে হবে?” কমিশনের বাইক-নীতি নিয়ে এই টানাপড়েন ভোটের পরিবেশকে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।