নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী সুজিত বসু ও রথীন ঘোষকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আগামী ২৪ এপ্রিল, অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটের ঠিক পরের দিনই তাঁদের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বালি পাচার মামলায় ইডির তলব এড়িয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল।
পুর নিয়োগ মামলায় নজরে দুই হেভিওয়েট: ইডি সূত্রে খবর, পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে সুজিত বসু ও রথীন ঘোষকে এর আগেও একাধিকবার তলব করা হয়েছিল। কিন্তু দু’জনেই হাজিরা দেননি। এবার নিয়ে তাঁদের চতুর্থবার তলব করা হল। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত অয়ন শীলের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত নথির ভিত্তিতে ১৭টি পুরসভায় বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ সামনে আসে। সেই সূত্র ধরেই এর আগে বিধাননগরের প্রার্থী সুজিত বসুর বাড়ি, অফিস এমনকি তাঁর ছেলের রেস্তোরাঁতেও তল্লাশি চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। ভোটের প্রচারের চূড়ান্ত ব্যস্ততার মধ্যে এই জোড়া তলব রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
বালি পাচার মামলায় হাজিরা এড়ালেন পুলিশ কর্তা: বালি পাচার মামলার আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখতে বুধবার তলব করা হয়েছিল কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে। তবে এদিন তিনি হাজিরা দেননি। শান্তনুবাবুর আইনজীবী ইডি দফতরে এসে জানিয়েছেন, পেশাগত ব্যস্ততার কারণে তিনি আসতে পারেননি এবং তদন্তকারীদের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন জেলাশাসক সুনীল আগরওয়ালের হাজিরা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, প্রয়োজনে তাঁদের ফের নোটিশ পাঠানো হতে পারে।
ভোটের আবহে কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাল: ভোটের মরসুমে এভাবে একের পর এক হেভিওয়েট প্রার্থী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তলব করা নিয়ে সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, প্রথম দফার ভোটের পরই পরাজয় নিশ্চিত জেনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ইডি-সিবিআইকে ব্যবহার করছে বিজেপি। যদিও ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২৪ এপ্রিল সুজিত বসু ও রথীন ঘোষ শেষ পর্যন্ত হাজিরা দেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।