নিউজ ডেস্ক: আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে মামলার দশম স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই-এর দাবি, তদন্ত নিজস্ব গতিতে এগোচ্ছে। তবে এই রিপোর্টে বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট হতে পারেনি নির্যাতিতার পরিবার। তাঁদের আইনজীবীদের অভিযোগ, দিনের পর দিন একই তথ্য ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পেশ করছে সিবিআই, বাস্তবে তদন্তে কোনও নতুন মোড় আসেনি।
আদালতে সিবিআই-এর দাবি: এদিন শুনানিতে সিবিআই-এর তরফে আদালতকে জানানো হয়, নতুন করে আরও সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাঁদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। যদিও এই সাতজন কারা বা তাঁদের বয়ানে কোনও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছে সংস্থাটি।
ক্ষুব্ধ নির্যাতিতার পরিবার: এদিন এজলাসে হাজির ছিলেন মৃত চিকিৎসকের বাবা-মা। শুনানির সময় তাঁদের দুই কৌঁসুলি অমর্ত্য দে ও রাজদীপ হালদার সিবিআই-এর তদন্ত প্রক্রিয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, “সিবিআই আদালতের কাছে যা পেশ করছে তার কোনও ভিত্তি নেই। তদন্তে বিন্দুমাত্র অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না।” পরিবারের আইনজীবীদের বড় অভিযোগ— আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জেল হেফাজতে থাকা সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী সঞ্জয় রায়কে এখনও পর্যন্ত নতুন করে জেরা করেনি সিবিআই। পরিবারের পক্ষ থেকে যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছিল, কেন্দ্রীয় সংস্থা তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তী শুনানি ৫ জুন: নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবীরা সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁদের হতাশা প্রকাশ করলেও, মৃতার বাবা-মা এদিন কোনও মন্তব্য করতে চাননি। সিবিআই পাল্টি জবাবে জানিয়েছে, তদন্তের প্রতিটি ধাপ আদালতের নজরে আনা হচ্ছে। সওয়াল-জবাব শেষে আদালত পরবর্তী স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার দিন ধার্য করেছে আগামী ৫ জুন। তিলোত্তমার বিচার চেয়ে যখন সাধারণ মানুষ এখনও সরব, তখন তদন্তের এই শ্লথ গতি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল।