নিউজ ডেস্ক: জঙ্গলমহলের পাথুরে মাটি এখন আগুনের মতো তপ্ত। ঝাড়গ্রামে পারদ চড়েছে ৪০ ডিগ্রির উপরে। তীব্র দাবদাহে যখন মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে, তখন চিড়িয়াখানার খাঁচাবন্দি আবাসিকদের স্বস্তি দিতে কোমর বেঁধে নামল ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্ক কর্তৃপক্ষ। চিতা থেকে ভাল্লুক, কিংবা নীলগাই— সবার জন্যই এখন চলছে বিশেষ ‘সামার ডায়েট’ ও ঠান্ডা জলের অঝোর ধারা।
খাবারের মেনুতে আমূল বদল: তীব্র গরমের হাত থেকে পশু-পাখিদের বাঁচাতে খাবারের তালিকায় আনা হয়েছে বড়সড় পরিবর্তন। শরীর ঠান্ডা রাখতে নীলগাই ও হরিণের পালকে নিয়মিত খাওয়ানো হচ্ছে গুড়জল। টিয়া, ফ্রিজেট বা ম্যাকাওদের পাতে এখন রোজই থাকছে রসালো তরমুজ আর কচি শসা। মাংসাশী প্রাণীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম জানিয়েছেন, ১৬ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির পাখি এবং সরীসৃপদের সুরক্ষায় এনক্লোজারের ভেতর সবসময় নজর রাখা হচ্ছে।
শীতল পরশ এনক্লোজারে: জন্তুদের ঘরবাড়ি ঠান্ডা রাখতেও নেওয়া হয়েছে অভিনব ব্যবস্থা। এনক্লোজারের ছাদে দেওয়া হয়েছে খড়ের পুরু ছাউনি। বসানো হয়েছে স্প্রিংকলার, যা দিয়ে বৃষ্টির মতো জল ছিটিয়ে পরিবেশ ঠান্ডা রাখা হচ্ছে। ভাল্লুক ও চিতাদের এনক্লোজারে ছাড়ার আগে প্রতিদিন নিয়ম করে ঠান্ডা জলে স্নান করানো হচ্ছে। নেকড়ে, হায়না কিংবা ফিশিং ক্যাটদের পানীয় জল যাতে গরম না হয়ে যায়, তার জন্য বারবার পাত্রের জল বদলে দিচ্ছেন কর্মীরা। পাখিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ ছোট ও মাঝারি কাঠের ঘর।
বন্য স্বভাব ও চিড়িয়াখানার লড়াই: পশ্চিম মেদিনীপুরের সুকুমার মহাবিদ্যালয়ের জুলজিক্যাল বিভাগের প্রধান সুমন প্রতিহার জানান, বন্য পরিবেশে জন্তুরা সাধারণত তাপ বাড়ার আগেই শিকার সেরে ফেলে কিংবা সূর্যাস্তের পর বের হয়। প্রচণ্ড গরমে মাংসাশী প্রাণীরা জিভ বের করে শ্বাস নিয়ে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে চিড়িয়াখানার আবাসিকদের সেই লড়াই করতে হয় না, কারণ কৃত্রিমভাবেই তাদের জন্য শীতল পরিবেশ তৈরি করে দেয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ঝাড়গ্রাম জুলজিক্যাল পার্কে সব মিলিয়ে ৪ শতাধিক পশু-পাখি ও সরীসৃপ রয়েছে, যাদের সুস্থ রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বন দপ্তরের কাছে।