নিউজ ডেস্ক: আগুনে সব হারিয়ে এখন পরনের কাপড়টুকুই সম্বল সন্তোষপুর স্টেশন সংলগ্ন ‘ষোলো বিঘা’ বস্তির বাসিন্দাদের। মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকু নেই, তার ওপর মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে যাওয়া ভোটার কার্ড। আর মাত্র দু’দিন পরেই বিধানসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর (SIR) পর্বে লড়াই করে ভোটার তালিকায় নাম টিকিয়ে রাখলেও, এখন হাতে সচিত্র পরিচয়পত্র না থাকায় ভোটদান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কয়েকশো মানুষ।
প্রশাসনের তৎপরতায় ‘ই-ভোটার কার্ড’: নির্বাচনের ঠিক মুখে এমন বিপর্যয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। মহেশতলা বিধানসভার এই এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে বিডিও সুবর্ণা মজুমদার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৩৩ এবং ৩৪ নম্বর অংশে প্রায় ৬৫ জনের ভোটার কার্ড পুড়ে গিয়েছে বলে দমকলের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের ‘মাস পিটিশন’ বা গণ-আবেদন করতে বলা হয়েছে। মহেশতলা থানার পুলিশি রিপোর্টের ভিত্তিতে এই ভোটারদের দ্রুত ‘ই-ভোটার কার্ড’ দেওয়ার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন, যাতে বুধবার তাঁরা বুথে গিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
রাজনীতির তরজা ও ত্রাণ বিলি: এলাকার কাউন্সিলার দীপিকা দত্ত জানিয়েছেন, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ত্রিপল ও অস্থায়ী খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রবিবার থেকে ঘর তৈরির জন্য বাঁশ ফেলার কাজও শুরু হয়েছে। তবে এই ত্রাণ বিলিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি প্রার্থী তমোনাথ ভৌমিক এবং সিপিএম প্রার্থী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তৃণমূল এই মানবিক বিপর্যয়কে কাজে লাগিয়ে ভোটের ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। বিরোধী প্রার্থীদের দাবি, তাঁদের ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং গোটা এলাকাটি তৃণমূল কুক্ষিগত করে রেখেছে।
স্মৃতির ছাইয়ে নতুন লড়াই: বিধ্বংসী আগুনের পর ঘর হারানোর যন্ত্রণা আর ভোটদানের আকুলতা— এই দুইয়ের দোলাচলে এখন সন্তোষপুরের বস্তিবাসী। বিডিও অফিস ও থানার দোরগোড়ায় ভিড় জমছে ক্ষতিগ্রস্তদের, যদি শেষ মুহূর্তে হাতে পাওয়া যায় সেই ডিজিটাল পরিচয়পত্র। একদিকে হাড়ভাঙা খাটুনিতে জমানো সংসার আগুনের গ্রাসে যাওয়ার শোক, অন্যদিকে বুধবারের মহাযুদ্ধে নিজের রায় জানানোর তাগিদ— সন্তোষপুর এখন যেন এক অদ্ভুত লড়াইয়ের সাক্ষী।