নিউজ ডেস্ক: ভক্তিভরে হরিনাম সংকীর্তন শুনে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু মাঝপথেই সাক্ষাৎ যমদূতের মতো সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল এক মস্ত হাতি। ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের পুকুরিয়া বিট এলাকায় দলছুট হাতির হানায় গুরুতর জখম হলেন ৬২ বছরের এক বৃদ্ধা। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে।
অন্ধকারে অতর্কিত হামলা: বন দপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত বৃদ্ধার নাম সাইবানী নায়েক। তিনি নেদবহড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সরো গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার সন্ধ্যায় পাশের মাসাংডিহি গ্রামে হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়েছিল। গ্রাম থেকে আরও ১০-১২ জন প্রতিবেশীর সঙ্গে তিনিও গিয়েছিলেন সংকীর্তন শুনতে। রাত গভীর হলে সকলে মিলে জঙ্গলঘেরা পথ দিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। তখনই অন্ধকারের বুক চিরে হঠাতই তাঁদের সামনে চলে আসে একটি দলছুট দাঁতাল। সঙ্গীরা প্রাণভয়ে দৌড়ে পালতে পারলেও, বয়সের ভারে সাইবানীদেবী পিছিয়ে পড়েন। চোখের পলকে হাতিটি তাঁকে শুঁড়ে তুলে সজোরে মাটিতে আছাড় মারে।
উদ্ধার ও চিকিৎসা: হাতিটি এলাকা ছাড়লে সঙ্গীরা ফিরে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন। পুকুরিয়ার বিট অফিসার সোমনাথ ঘোষ জানান, খবর পাওয়া মাত্রই বন দপ্তরের কর্মীরা পৌঁছে বৃদ্ধাকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বৃদ্ধার দেখাশোনার জন্য বন দপ্তরের এক কর্মীকে হাসপাতালেই রাখা হয়েছে। যাবতীয় চিকিৎসার খরচ বন দপ্তর বহন করছে বলে জানানো হয়েছে।
আতঙ্কে জঙ্গলমহল: স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন পাতর আক্ষেপের সুরে জানান, এলাকায় এখন একাধিক দলছুট হাতি ঘুরে বেড়াচ্ছে, যার ফলে রাতের বেলা যাতায়াত কার্যত মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে পুকুরিয়া ও সংলগ্ন এলাকায় ক্রমাগত মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। বিশেষ করে অন্ধকারের পর জঙ্গলপথ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে জঙ্গলমহলের এই হাতির উপদ্রব কবে কমবে, সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে গ্রামবাসীদের।