নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ফের শহরে বড়সড় অস্ত্র পাচার চক্রের হদিস মিলল। সোমবার দুপুরে চিৎপুর থানা এলাকার বিটি রোডে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। এই ঘটনায় শামিম আলম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তি বিহারের নওয়াদা জেলার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ভোটের আগে শহরের বুকে এই বিপুল অস্ত্রশস্ত্র কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।
বিহার থেকে কলকাতায় ডেলিভারি: এসটিএফ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর ছিল যে বিহার থেকে এক অস্ত্র কারবারি কলকাতায় বড়সড় একটি ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ নিয়ে আসছে। সেই মতো সোমবার দুপুরে বিটি রোডে ওত পেতে ছিলেন গোয়েন্দারা। শামিম সেখানে পৌঁছাতেই তাঁকে ঘিরে ফেলা হয়। তাঁর কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করতেই বেরিয়ে আসে তিনটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি অত্যাধুনিক সেভেন এমএম পিস্তল এবং প্রচুর পরিমাণ তাজা কার্তুজ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শামিম কবুল করেছে, সে বিহার থেকে এই অস্ত্রগুলি কলকাতার এক ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দিতে এসেছিল।
অর্ডারেই আসত অস্ত্র: তদন্তে জানা গিয়েছে, কলকাতার ওই বেআইনি অস্ত্র ব্যবসায়ী বিহারের একটি অবৈধ অস্ত্র কারখানার মালিককে এই আগ্নেয়াস্ত্র পাঠানোর ‘অর্ডার’ দিয়েছিলেন। সেই ফরময়েশ মাফিক অস্ত্র সরবরাহ করতেই কলকাতায় পা রেখেছিল শামিম। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। মূলত নির্বাচনের দিন অশান্তি পাকানোর লক্ষ্যেই এই মারণাস্ত্র মজুত করা হচ্ছিল কি না, গোয়েন্দারা সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
খুঁজছে কলকাতা পুলিশ: ধৃত শামিম আলমকে জেরা করে কলকাতার সেই ‘রহস্যময়’ ব্যবসায়ীর নাম ও পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে চিৎপুর থানা ও এসটিএফ। গোয়েন্দাদের অনুমান, নির্বাচনের ঠিক আগে সীমান্ত পেরিয়ে বা ভিনরাজ্য থেকে আরও অস্ত্র শহরে ঢোকানোর পরিকল্পনা রয়েছে পাচারকারীদের। বিটি রোডের মতো জনবহুল এলাকায় দিনের আলোয় এভাবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে লালবাজারের অন্দরে।