নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার মহারণের ঠিক আগে খাস কলকাতায় নিরাপত্তা ও সমন্বয়ে বড়সড় ধাক্কা। সোমবার বিকেলে হঠাৎই বিকল হয়ে গেল কলকাতা পুলিশের অত্যাধুনিক ‘এলটিই’ (LTE) ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থা। লালবাজার সূত্রে খবর, সোমবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে শীর্ষকর্তাদের। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ভিভিআইপি-দের নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয় কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের।
সার্ভার বিভ্রাটে থমকে গেল তথ্য আদানপ্রদান: লালবাজারের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছে, আচমকাই কলকাতা পুলিশের মূল এলটিই-সার্ভারটি বসে যায়। এর ফলে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যে জরুরি বার্তা ও নির্দেশ পাঠানো হয়, তা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। নির্বাচনের এই চরম উত্তেজনার মুহূর্তে যখন প্রতিটি মোড়ে কড়া নজরদারি চলছে, তখন পুলিশের এই ‘লাইফলাইন’ বিকল হওয়ায় কার্যত কয়েক ঘণ্টার জন্য অন্ধ হয়ে পড়ে লালবাজারের কন্ট্রোল রুম। মাঠ পর্যায়ে থাকা অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে কালঘাম ছোটে কর্তাদের।
দিল্লির সংস্থাকে কড়া তলব: এই নজিরবিহীন যান্ত্রিক বিপর্যয়ের কারণ জানতে এবং দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করতে দিল্লির সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাকে কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ওয়্যারলেস) নাভিন্দার সিং পাল। চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, নির্বাচনের ঠিক আগে কেন এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় বিপর্যয় ঘটল। বিষয়টি নিয়ে যুগ্ম কমিশনার (সদর) সুদীপ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনও উত্তর মেলেনি। তবে রাতের দিকে পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা দাবি করেছেন, ‘সামান্য সমস্যা হয়েছিল, যা পরে মিটিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন: বুধবার কলকাতার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগে এই ডিজিটাল বিপর্যয় প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, ভোটের দিন যদি পুনরায় এমন ঘটনা ঘটে, তবে বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই ঘটনার পেছনে কারিগরি ত্রুটি নাকি কোনও অন্তর্ঘাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই ডিজিটাল বিভ্রাট লালবাজারের অন্দরে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।