নিউজ ডেস্ক: উপযুক্ত প্রমাণের অভাব এবং পুলিশের তদন্তে একাধিক ফাঁক থাকার জেরে এক চাঞ্চল্যকর পকসো (POCSO) মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেলেন এক যুবক। সোমবার শিয়ালদহ আদালতের বিশেষ পকসো আদালত এই রায় দিয়েছে। চিৎপুর থানা এলাকায় নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়েছেন বিচারক।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ: ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। চিৎপুর থানা এলাকায় ১৭ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ওই যুবকের বিরুদ্ধে। পরে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং এক শিশুসন্তানের জন্ম দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পকসো আইনে মামলা রুজু করে এবং অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ সময় কারাবাসের পর বর্তমানে তিনি জামিনে ছিলেন।
তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: সোমবার এই মামলার শুনানির সময় পুলিশের তদন্তের বেশ কিছু গুরুতর দুর্বলতা আদালতের সামনে উঠে আসে। অভিযুক্তের আইনজীবী অমর্ত্য দে সওয়াল করেন যে, তাঁর মক্কেলকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ তোলেন, পুলিশ ঘটনার পর বাজেয়াপ্ত করা কোনও সামগ্রীই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠায়নি। এমনকি, শিশুটির প্রকৃত বাবা কে, তা নিশ্চিত করতে কোনও ডিএনএ (DNA) পরীক্ষাও করানো হয়নি। এই ধরণের স্পর্শকাতর মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ না থাকা তদন্তের একটি বড় ত্রুটি হিসেবে গণ্য করেছে আদালত।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: এদিন বিচারক জানান, শুধুমাত্র মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না, বিশেষত যখন নির্যাতিতার বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট বা ডিএনএ পরীক্ষার মতো অকাট্য প্রমাণের অনুপস্থিতিতে যুবকের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ ধোপে টেকেনি। ফলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সোমবার মুক্তির স্বাদ পেলেন ওই যুবক। এই রায় ঘিরে পুলিশের কর্মপদ্ধতি ও তদন্তের মান নিয়ে ফের আইনি মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।