নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় বেনজির সংঘাত। একদিকে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ, অন্যদিকে খোদ তৃণমূল প্রার্থীর অন্দরমহলে ঢুকে পুলিশ পর্যবেক্ষকের ‘ধমক’। সোমবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে নবনিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার সফর এবং তাঁর ‘পস্তাতে হবে’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পাল্টা ‘পুষ্পা’ ছবির সংলাপ আউড়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তৃণমূল প্রার্থী।
মধ্যরাতে হেনস্থার অভিযোগ: সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, রবিবার রাতে ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মাঝরাতে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে চড়াও হন। শান্তনুবাবুর অভিযোগ, “বাড়িতে পুরুষ সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তল্লাশির নামে মহিলাদের অশালীনভাবে স্পর্শ করা হয়েছে এবং হেনস্থা করা হয়েছে।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
‘পস্তাতে হবে’, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক: এদিনই ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে সশরীরে হাজির হন পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা। প্রার্থীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে এক নজিরবিহীন মেজাজে দেখা যায়। একটি ভাইরাল ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি আমাদের নিউজ পোর্টাল) পর্যবেক্ষককে বলতে শোনা যাচ্ছে, “শুনছি জাহাঙ্গিরের লোকজন মানুষকে হুমকি দিচ্ছে। ভালো করে খবর নেব। পরে যেন কান্নাকাটি বা পস্তাতে না হয়।” একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের মুখে এমন রাজনৈতিক নেতার মতো ভাষা শুনে হতবাক রাজনৈতিক মহল।
জাহাঙ্গিরের পাল্টা ও অখিলেশের প্রতিক্রিয়া: পুলিশ পর্যবেক্ষকের এই ধমক নিয়ে জাহাঙ্গির খান সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “ধমকানো-চমকানোতে আমরা ভয় পাই না। আমি পুষ্পা… ঝুঁকেগা নহি। মানুষ এর জবাব ব্যালট বক্সেই দেবে।” এই ঘটনা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিও তপ্ত। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এক্স হ্যান্ডেলে সরাসরি তোপ দেগে লিখেছেন, “বিজেপি-কমিশনের আঁতাতে যুক্ত দুর্নীতিপরায়ণ পুলিশ পর্যবেক্ষকও।”
নিরাপত্তা বনাম পক্ষপাতিত্ব: ভোটের মুখে কমিশনের নিযুক্ত আধিকারিকদের এমন সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে শাসকদল। তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে কমিশন আসলে বিরোধীদের হয়ে কাজ করছে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেই এই ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফলতার এই ‘পুষ্পা’ বনাম ‘পর্যবেক্ষক’ লড়াই এখন ভোটের ময়দানে অন্যতম চর্চার বিষয়।