নিউজ ডেস্ক: জাতীয় পরিবেশ আদালতের (এনজিটি) বারবার কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও হাওড়ার সাঁতরাগাছি ঝিলের দূষণ রোধে কার্যত কোনো পদক্ষেপই করা হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রতা ও উদাসীনতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল এনজিটি-র পূর্বাঞ্চলীয় বেঞ্চ। আদালতের আগের নির্দেশ পালন না-হওয়ায় এবং কোনো রিপোর্ট জমা না-পড়ায় সরাসরি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নোটিস পাঠিয়েছে পরিবেশ আদালত। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
সাঁতরাগাছি ঝিলকে দূষণমুক্ত করতে এবং পরিযায়ী পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল। প্রথমত, ঝিলের চারপাশে একটি ‘গারল্যান্ড ড্রেন’ নির্মাণ করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, দূষিত জল পরিশোধনের জন্য একটি ‘সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ (এসটিপি) বসাতে হবে। অভিযোগ, বছরের পর বছর কেটে গেলেও এর কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালে, যখন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত ঝিলের দূষণ নিয়ে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ ছিল, রেল, হাওড়া পুরসভা এবং রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের উদাসীনতায় ঝিলটি কার্যত আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে আদালত হাওড়া পুরসভাকে নিজস্ব খরচে এসটিপি তৈরির নির্দেশ দেয় এবং রেলকে প্রয়োজনীয় জমি ও দখলদার উচ্ছেদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে রেল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে জমি এবং প্রকল্পের খরচ নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলে। ২০২৩ সালে আদালত ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। সেই সঙ্গে ২০২৬-এর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে একটি ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ বা কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল মুখ্যসচিবকে।
সম্প্রতি বিচারপতি অরুণকুমার ত্যাগী এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য এ সেন্থিল ভেলের বেঞ্চ লক্ষ্য করেন যে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকারের তরফে কোনো রিপোর্ট জমা পড়েনি। নির্দেশ অমান্য করার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলাটিকে নতুন করে নথিভুক্ত করেছে এবং মুখ্যসচিবের কাছে জবাব তলব করেছে।