নিউজ ডেস্ক: একদিকে উপসাগরীয় যুদ্ধে জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা এবং অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি— দুইয়ের জেরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ও অটো-এলপিজির দাম বাড়তে থাকায় সংকটে পড়েছে গণপরিবহন ব্যবস্থা। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিলেও অমিল অটো-এলপিজি। তবে এলপিজি নিয়ে এই উদ্বেগের মাঝেই বড় স্বস্তির খবর শোনাচ্ছে সিএনজি (কমপ্রেসড ন্যাচরাল গ্যাস)। শহরে চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে এর জোগান।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কয়েক মাস আগেও কলকাতায় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার কেজি সিএনজি সরবরাহ হতো। বর্তমানে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিসিএল) দৈনিক প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার কেজি গ্যাস সরবরাহ করছে। সংস্থার পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, সিএনজির কোনো সংকট নেই। এর ফলে সিএনজিতে চলা অটো, ওলা, উবর, ট্যাক্সি এবং সরকারি বাসের জ্বালানি নিয়ে সমস্যা হবে না। জোগান বাড়তে দেখে রাজ্য পরিবহণ দপ্তরও ২৫টি রুটে ধাপে ধাপে ২৫০টি সিএনজি বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিজিসিএল-এর সিইও অনুপম মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নিউ টাউন-সহ বৃহত্তর কলকাতার পাঁচটি পাম্পে এখন ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। পাইপলাইনের কাজ সম্পূর্ণ হলে সবকটি পাম্পেই নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে রাজারহাট-নিউ টাউন, কসবা, গড়িয়া, সিঁথির মোড় এবং কল্যাণীর পাম্পগুলোতে দিনরাত সিএনজি মিলছে। পাশাপাশি, যে সমস্ত আবাসন ও বাড়িতে পাইপলাইনে রান্নার গ্যাস (পিএনজি) সরবরাহ করা হয়, সেখানেও আপাতত দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
পরিবেশ-বান্ধব হওয়ার পাশাপাশি সিএনজির অর্থনৈতিক সুবিধাও চালকদের এই জ্বালানির প্রতি আকৃষ্ট করছে। পেট্রলের তুলনায় দাম কম অথচ মাইলেজ প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় ক্যাব ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা সিএনজির দিকে ঝুঁকছেন। আগে যেখানে গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, এখন পাম্পের সংখ্যা বাড়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমেছে। বিজিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চলতি মাসেই শহরে বেলঘরিয়া রথতলা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, উল্টোডাঙা বাস ডিপো-সহ আরও ৮টি নতুন পাম্প চালু করা হবে।