নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত মুছে গেল তৃণমূলের দাপট। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেলেন হেভিওয়েট মন্ত্রী থেকে শুরু করে দুঁদে বিধায়করা। সবথেকে বড় ধাক্কা খেয়েছে ঘাসফুল শিবির সাগর ও ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে। সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী তথা সাগরের ভূমিপুত্র বঙ্কিম হাজরা প্রথমবার নির্বাচনে লড়াই করা বিজেপির সুমন্ত মণ্ডলের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন।
তবে এবারের নির্বাচনের সবথেকে চর্চিত কেন্দ্র ছিল ভাঙড়। নিজের দীর্ঘদিনের গড় ক্যানিং পূর্ব ছেড়ে আইএসএফ (ISF) নেতা নৌশাদ সিদ্দিকিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ভাঙড়ে পা রেখেছিলেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা শওকত মোল্লা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়— তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ভাঙড়ে সভা করেও শওকতকে জেতাতে ব্যর্থ হলেন। গণনা শেষে দেখা যায়, প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ‘ভাইজান’ নৌশাদ সিদ্দিকির কাছে পরাস্ত হয়েছেন শওকত। বিকেলের পর থেকেই যাদবপুর এপিসি পলিটেকনিক কলেজের বাইরে বেগুনি আবির উড়িয়ে বিজয় উৎসবে মেতে ওঠেন আইএসএফ সমর্থকরা।
শওকত মোল্লা পরাজিত হলেও তাঁর অনুগামী হিসেবে পরিচিত বাহারুল ইসলাম অবশ্য ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে জয়ের ধারা বজায় রেখেছেন। অন্যদিকে, জেলার মান রক্ষা করেছেন অভিজ্ঞ বিদায়ী মন্ত্রী তথা বিষ্ণুপুরের প্রার্থী দিলীপ মণ্ডল। তিনি প্রায় ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে নিজের গড় অটুট রেখেছেন। তবে বঙ্কিম হাজরা ও শওকত মোল্লার মতো হেভিওয়েটদের পতন দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে তৃণমূলের একাধিপত্যে বড়সড় ফাটল ধরাল।