নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে শুধু খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, গেরুয়া ঝড়ে কার্যত ধুয়ে মুছে গেল তাঁর মন্ত্রিসভার সিংহভাগ। এবারের মহারণে পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে মন্ত্রিসভার দুই ডজন সতীর্থকে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু থেকে শুরু করে স্কুলশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মন— দুজনেই ধরাশায়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীদের কাছে। কেবল শিক্ষা দপ্তর নয়, অর্থ, বিদ্যুৎ, সেচ, পঞ্চায়েত ও কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদেরও হারের মুখ দেখতে হয়েছে।
পরাজিত হেভিওয়েটদের তালিকায় রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মলয় ঘটক, উদয়ন গুহ এবং সুজিত বসুর মতো প্রভাবশালী নাম। এঁদের মধ্যে অনেকেই ২০১১ সাল থেকে মমতার ছায়াসঙ্গী ও মন্ত্রিসভার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। বীরবাহা হাঁসদা, বেচারাম মান্না, প্রদীপ মজুমদার এবং পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে জয়ের মুখ দেখতে পাননি। পরাজিত হয়েছেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং মানস ভুঁইয়াও। এমনকি সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বর্ষীয়ান বঙ্কিম হাজরা এবং সবসময় মুখ্যমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ইন্দ্রনীল সেনকেও হার মানতে হয়েছে।
রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় অঘটনটি ঘটেছে রামপুরহাটে। সেখানে ২০০১ সাল থেকে টানা বিধায়ক থাকা ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হয়েছেন। উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চল তো বটেই, এমনকি খাস দক্ষিণবঙ্গেও তৃণমূলের দুর্গগুলো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। তবে এই মহাবিপর্যয়ের মধ্যেও নিজেদের আসন রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, পুলক রায়, বিপ্লব মিত্র এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সব মিলিয়ে ২২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর এই শোচনীয় পরাজয় তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এক ঐতিহাসিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকল।