নিউজ ডেস্ক: বাংলায় গেরুয়া ঝড়ের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এক নজিরবিহীন ছবি ধরা পড়ল রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের অন্দরে। সোমবার দুপুর থেকে বিজেপির জয় নিশ্চিত হতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন পুলিশকর্মীদের একটি বড় অংশ। বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন ও পুলিশ ব্যারাকে মিষ্টি বিতরণ শুরু হয়। এমনকি, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এতদিন কোণঠাসা হয়ে থাকা আইপিএস অফিসারদের একাংশের মধ্যেও স্বস্তির মেজাজ ধরা পড়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এদিন আছড়ে পড়ে নবান্নের বিদায়ী শাসনের বিরুদ্ধে।
পুলিশ কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় আইনের শাসনের বদলে ‘তাঁবেদারি’র সংস্কৃতি কায়েম হয়েছিল। অপরাধ করেও শাসক দলের নেতারা বারবার পার পেয়ে গিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করলেও উপরতলার ফোনে তাঁদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। আলিপুর থানায় টেবিলের তলায় লুকিয়ে আত্মরক্ষা করার মতো চরম অপমানের ঘটনা আজও ভোলেননি নিচুতলার কর্মীরা। এছাড়া, নিয়োগ বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ডিউটির চাপ, অস্বাস্থ্যকর ব্যারাকে বসবাস এবং ডিএ (DA) না পাওয়ার ক্ষোভ ছিল চরমে।
সবচেয়ে বেশি রোষ দেখা গিয়েছে শাসক দল ঘনিষ্ঠ ‘ওয়েলফেয়ার কমিটি’র বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই কমিটির অফিসগুলি সিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিচুতলার কর্মীদের দাবি, এই সংগঠনের নাম করে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। বদলি থেকে শুরু করে পদোন্নতি— সব ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট ‘কোটারি’ কাজ করত বলে তাঁদের অভিযোগ। এদিন সেই শৃঙ্খল ভাঙার আনন্দে অনেককে নাচে-গানে মেতে উঠতেও দেখা যায়।
এদিকে, ফলাফল পরবর্তী অশান্তি এড়াতে কড়া অবস্থান নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার থেকে বিজয় মিছিল করতে হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়ম না মানলে কড়া আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে নবান্নের শীর্ষ মহল বদলানোর এই সন্ধিক্ষণে পুলিশ বাহিনীর অন্দরে যে স্বতঃস্ফূর্ত উল্লাস দেখা গেল, তা গত দেড় দশকের প্রশাসনিক পরিস্থিতির এক বড়সড় আয়না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।