নিউজ ডেস্ক: বাঁকুড়া জেলায় তৃণমূলের রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে লাল মাটির এই জেলায় কার্যত ‘ক্লিন সুইপ’ করল বিজেপি। জেলার ১২টি আসনের সবকটিতেই জয়লাভ করে এক ঐতিহাসিক নজির গড়ল গেরুয়া শিবির। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ৪টি আসন ধরে রাখতে পারলেও, এবার জঙ্গলমহল থেকে সদর— সর্বত্রই ফুটেছে পদ্ম। বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির নীলাদ্রিশেখর দানা প্রায় ৫৪ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে নিজের দাপট বজায় রেখেছেন।
এদিন সকাল থেকেই বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর এবং খাতড়া গণনাকেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গলমহলের তিন কেন্দ্র— রাইপুর, রানিবাঁধ ও তালডাংরায় সবুজ গড়ে ধস নামে। রানিবাঁধে বিজেপির ক্ষুদিরাম টুডু ৫২,২৬৯ ভোটে তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন। রাইপুর ও তালডাংরাতেও একই চিত্র দেখা গিয়েছে। এমনকি বড়জোড়া এবং ইন্দাস, যেখানে তৃণমূল কিছুটা লড়াই দিচ্ছিল, সেখানেও শেষ হাসি হেসেছে বিজেপিই। বাঁকুড়া সদরের পাশাপাশি ওন্দা, ছাতনা, শালতোড়া, কোতুলপুর, সোনামুখী ও বিষ্ণুপুরেও বিজেপি প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
পরাজয়ের পর ইভিএম নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর দাবি, “ভোটের ১০ দিন পরেও ইভিএমে ৯০ শতাংশ চার্জ থাকা অসম্ভব। আমরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছি।” যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে মানুষ অতিষ্ঠ হয়েই বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই ওরা এখন ইভিএমের অজুহাত দিচ্ছে।”
জঙ্গলমহলের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা থেকে শুরু করে শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত— বাঁকুড়ার সব স্তরের মানুষ এবার পদ্ম শিবিরের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। নীলাদ্রিশেখর দানার রেকর্ড জয় এবং শালতোড়ায় চন্দনা বাউরির পুনরায় জয়লাভ বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী প্রমাণ করল। বাঁকুড়ার এই ১২-০ ফলাফল রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের জন্য এক চরম সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা দিয়েছে।