নিউজ ডেস্ক: ভোটের কাজ সেরে আর সুস্থ শরীরে বাড়ি ফেরা হলো না। নির্বাচনের ডিউটিতে প্রবল দাবদাহ ও পরিকাঠামোর অভাব কেড়ে নিল আরও এক বিএলও-র (BLO) প্রাণ। শনিবার সকালে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হলো বাঁকুড়ার মৌলাডাঙা গ্রামের বাসিন্দা বছর বিয়াল্লিশের শম্পা পরামানিকের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘অমানবিক’ আচরণের অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বিএলও ও নিহতের পরিজনরা।
বুথের বাইরে রোদেই কাটল দিন: পেশায় আইসিডিএস কর্মী শম্পা পরামানিককে এবার বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া টাউন বয়েজ হাইস্কুলের বুথে বিএলও-র দায়িত্ব দিয়েছিল কমিশন। পরিবারের দাবি, ভোটের দিন সকাল থেকে প্রবল রোদের মধ্যে বুথের বাইরে বসে ভোটারদের তালিকায় নাম মেলানোর কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ডিউটি করলেও কমিশনের পক্ষ থেকে নূন্যতম পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়নি। আগুনের মতো লু-এর মধ্যেই দিনভর কাজ করার ফলে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ভোট মিটতেই বিপর্যয়: পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট শেষ করে বাড়ি ফেরার পর থেকেই অসুস্থ বোধ করতে থাকেন শম্পা। শুরু হয় অনর্গল বমি। স্থানীয়ভাবে বাড়িতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শনিবার সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। তড়িঘড়ি তাঁকে বাঁকুড়া শহরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু পথেই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘ সময় রোদে থাকা এবং ‘হিট স্ট্রোক’ বা ডিহাইড্রেশনের জেরেই এই অকালমৃত্যু।
কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ: শম্পার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাঁকুড়ায় বিএলও-দের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তাঁদের অভিযোগ, কমিশন নজিরবিহীনভাবে বুথে বুথে বিএলও-দের ডিউটি দিলেও তাঁদের নূন্যতম সুযোগ-সুবিধার কথা ভাবেনি। তেষ্টার জলটুকুও নিজেদের জোগাড় করতে হয়েছে। মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে কমিশনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই ঘটনার পর বাঁকুড়ায় বিএলও-দের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।