নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার শহরতলি এলাকাগুলিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। খড়দহ থেকে বরানগর— বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতাদের বাড়ি, ক্লাব এবং দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তি ফেরাতে এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি রুখতে নজিরবিহীনভাবে রাস্তায় নামলেন বরানগরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ ও দমদমের অরিজিৎ বক্সি। তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়েই তাঁরা নিজেদের কর্মীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, কোনো ভাঙচুর বা দখলদারি বরদাস্ত করা হবে না।
গত সোমবার রাত থেকেই খড়দহ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সায়ন মজুমদারের ফ্ল্যাট ও পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়। খড়দহ ব্লক তৃণমূল সভাপতির বাড়ির জল ও বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়ার মতো অমানবিক অভিযোগও সামনে এসেছে। পানিহাটি পুরসভার অধিকাংশ তৃণমূল কার্যালয় দখল করে গেরুয়া রং করার পাশাপাশি চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-র অফিসেও ভাঙচুর চালানো হয়। বরানগরের ঐতিহ্যবাহী ন-পাড়া দাদা ভাই সঙ্ঘের ক্লাবে ঢুকে মা দুর্গার মূর্তির মুখ ভাঙার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দক্ষিণ দমদমে আবার কাউন্সিলরের অধীনে থাকা সরকারি পুকুরের মাছ লুঠ করার অভিযোগ উঠেছে।
এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য বিজেপি নেতৃত্ব মূলত ‘দলবদলু’দের দায়ী করেছেন। সজল ঘোষ বরানগরের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত অফিস পরিদর্শন করে বলেন, “আমরা মানুষের কাছে হাত জোড় করে ভোট চেয়েছি, অফিস ভাঙার জন্য নয়। সোমবার দুপুরের পর যারা নব্য বিজেপি হয়েছে, তারাই এই অশান্তি করছে। প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি এদের কড়া হাতে দমন করতে।” একই সুর শোনা গিয়েছে অরিজিৎ বক্সির গলাতেও।
তৃণমূল নেতা রামকৃষ্ণ পালের মতে, পুরোনো সিপিএম বা তৃণমূল থেকে আসা নব্য বিজেপি কর্মীরাই এই তাণ্ডব বেশি চালাচ্ছে। নবনির্বাচিত প্রার্থীরা হামলা রোখার উদ্যোগ নিলেও, দখল হওয়া অফিসগুলি প্রকৃত অর্থে ফিরিয়ে দিলেই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বজায় থাকবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরতলির বিভিন্ন মোড়ে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।