নিউজ ডেস্ক: বউদি ও দেওরের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে চলত নিত্য দাম্পত্য কলহ। আর সেই পরকীয়ার জেরেই ঘটে গেল এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের পর নাবালক ছেলেকে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে নিজের আত্মহত্যার কথা জানিয়েছিলেন স্বামী। তার পরদিনই জঙ্গল থেকে উদ্ধার হল তাঁর ঝুলন্ত দেহ। গয়েরকাটার মোরাঘাট জঙ্গলের এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট ব্লকের দুরামারি এলাকায়। ঘটনার নেপথ্যে থাকা পারিবারিক অশান্তি ও পরকীয়া যোগের তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার রাতে মোরাঘাট জঙ্গলের ভিতর থেকে চুমকি রায় (৩৫) নামে এক মহিলার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহের পাশেই পড়েছিল একটি রক্তমাখা ধারালো ছুরি। এই ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন তাঁর স্বামী বিমল রায় (৪০)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুলিশ ও বনদফতরের কর্মীরা মোরাঘাট বনাঞ্চলে তল্লাশি শুরু করেন। এর পর দুপুর নাগাদ জঙ্গল থেকেই বিমল রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত দম্পতির ১৪ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। ঘটনার কিছু সময় আগে বিমলবাবু তাঁর নাবালক ছেলেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। কান্নাভেজা গলায় সেই বার্তায় তিনি বলেন, ‘‘আমি তোর মাকে খুন করেছি। এবার আমি নিজে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছি।’’ আচমকা বাবার কাছ থেকে এমন ভয়াবহ বার্তা পাওয়ার পরই পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে খোঁজখবর শুরু করেন। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। রাতেই উদ্ধার হয় চুমকির রক্তাক্ত দেহ এবং পরের দিন সকালে মেলে বিমলের মৃতদেহ। বাবা-মায়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে সম্পূর্ণ শোকে ভেঙে পড়েছে তাঁদের একমাত্র সন্তান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বুধবারও দুরামারি বাজারে স্বামী বিমল রায় ও স্ত্রী চুমকি রায়ের মধ্যে তীব্র বচসা হতে দেখেছিলেন অনেকে। সেই বচসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই নৃশংস কাণ্ড ঘটে। এলাকাবাসী ও পরিবারের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই দম্পতির মধ্যে অশান্তি চলছিল, যার মূলে ছিল একটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক। অভিযোগ, বিমল রায়ের এক নিকট আত্মীয়র (সম্পর্কে দেওর) সঙ্গে চুমকি রায়ের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। আর তা নিয়েই পরিবারে চরম অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়।

মোরাঘাটের রেঞ্জার চন্দন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, জঙ্গলের ভিতর থেকে প্রথমে মহিলার দেহ এবং পরদিন তাঁর স্বামীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বানারহাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর পিছনে আর কোনও রহস্য রয়েছে কি না, তা জানতে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিমলের পাঠানো মোবাইল ভয়েস মেসেজটির সত্যতাও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Share on Social Media