নিউজ ডেস্ক: শুরুটা হয়েছিল ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকে তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার মালিকানাধীন বেআইনি ক্যাফেটেরিয়া গুঁড়িয়ে দিয়ে। এবার সেই একই রুটে মৌখালি সেতু সংলগ্ন এলাকায় মাতলা নদীর চর দখল করে গড়ে ওঠা আরও ১৩টি বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রশাসন। অভিযোগ একেবারে এক— সরকারি নদী তীরবর্তী এলাকা বা নদীর চর দখল করে সেখানে একের পর এক বাণিজ্যিক দোকান, কাফে ও ঘর নির্মাণ। আগামী সপ্তাহেই ওই সমস্ত বেআইনি কাঠামোতে বুলডোজার চালানো শুরু হবে বলে সূত্রের খবর।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট সব মালিকদেরই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বৈধ নথিপত্র পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, কেউই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এর পর প্রশাসন থেকে নদীর চরের ওই সমস্ত জায়গা খালি করে নিজেদের নির্মাণ নিজেদেরই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও কোনো মালিকই তা করেননি। ফলে এবার কড়া প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে বুলডোজার চালিয়ে সরকারি জমি উদ্ধার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের মদতেই মাতলা নদীর চর দখল করে একে একে গজিয়ে উঠেছিল এসব অস্থায়ী কাফে, কংক্রিটের পাকাপোক্ত নির্মাণ ও বাণিজ্যিক দোকান। এতদিন এই বেআইনি কারবার নিয়ে মুখ খোলার সাহস কারও ছিল না। তবে প্রশাসনিক রদবদলের পর বেআইনি দখলদারি সরাতে নজিরবিহীন জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। শুধু তাই নয়, বুলডোজার চালিয়ে এই নির্মাণগুলি গুঁড়িয়ে দিতে সরকারের যে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে, সেই সমস্ত খরচ সংশ্লিষ্ট বেআইনি নির্মাণের মালিকদের থেকেই জরিমানা হিসেবে আদায় করা হবে। অন্যদিকে, ক্যানিং পশ্চিমের স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসের তৈরি বিতর্কিত বৃদ্ধাশ্রমটি নিয়ে আপাতত কোনো ভাঙচুর চালানো হচ্ছে না; সেটিকে সরকারিভাবে অধিগ্রহণ করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে চিন্তাভাবনা চলছে।