নিউজ ডেস্ক: বাড়ি দখলমুক্ত করতে ভাড়া করা গুন্ডা এখন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরি বা ইডি (ED)-র হেফাজতে রয়েছে, আর সেই গুন্ডাকে নগদে টাকা দেওয়ার অপরাধে বাড়ির মালিককেও গ্রেফতার করতে পারে কেন্দ্রীয় এজেন্সি! ঠিক এমন অবিশ্বাস্য ‘ইডি জুজু’র ভয় দেখিয়ে গড়িয়াহাটের এক প্রবীণ অধিবাসীর কাছ থেকে দফায় দফায় প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা হাতানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠল এক ভণ্ড প্রতারকের বিরুদ্ধে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে রবিবার রাতে মুকুন্দপুরের নয়াবাদ এলাকা থেকে অরুণাভ মুখোপাধ্যায় নামে ওই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে গড়িয়াহাট থানার পুলিশ। ধৃত অরুণাভ নীলবাতির গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াত এবং নিজেকে শাসকদলের ‘প্ল্যানিং কমিটি’র প্রভাবশালী সদস্য বলে পরিচয় দিত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী গড়িয়াহাটের ওই ব্যক্তির শেক্সপিয়র সরণি এলাকায় একটি মূল্যবান সম্পত্তি বহুদিন ধরে জবরদখল হয়ে ছিল। ২০১৬ সাল থেকে সম্পত্তিটি আইনি উপায়ে ফিরে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করছিলেন তিনি। সেই সূত্র ধরেই অরুণাভের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। অরুণাভ তাঁকে পরামর্শ দেয়, পুলিশ দিয়ে কাজ হবে না, পেশাদার কিছু গুন্ডা ভাড়া করে বাড়ি খালি করাতে হবে এবং সেই ব্যবস্থা সে নিজেই করে দেবে। এর কিছুদিন পর মহম্মদ সালাম নামে এক ব্যক্তি অভিযোগকারীকে ফোন করে কোটি টাকায় সম্পত্তিটি কেনার প্রস্তাব দেয়। গোটা বিষয়টি সাজানোর মাঝেই হঠাৎ অরুণাভ নতুন নাটক শুরু করে।
অরুণাভ ওই ব্যক্তিকে ফোন করে মারাত্মক ভয় দেখিয়ে দাবি করে, বাড়ি দখলের জন্য যে সালামকে টাকা দেওয়া হয়েছিল, সে সিবিআই ও ইডি-র পুরনো মামলায় দিল্লি বা কলকাতার হেফাজতে রয়েছে। জেরায় সালাম নাকি ইডি-র কাছে স্বীকার করেছে যে গড়িয়াহাটের ওই ব্যক্তিই তাকে নগদ টাকা দিয়েছিলেন। ইডি যে কোনো মুহূর্তে তাকে গ্রেফতার করতে পারে— এই আতঙ্কের সুযোগ নিয়ে অরুণাভ প্রস্তাব দেয় যে, ইডি-র শীর্ষ আধিকারিক ও আইনজীবীদের ‘সেটিং’ করে মামলা রফা করতে হবে। গ্রেফতারির ভয়ে পড়ে ধাপে ধাপে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা অরুণাভের হাতে তুলে দেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। টাকা ইডি-র কাছে জমা পড়েছে প্রমাণ করতে একাধিক ভুয়ো ডিমান্ড ড্রাফটও (Demand Draft) তৈরি করে দেখায় প্রতারক।
পরবর্তীতে সন্দেহ দানা বাঁধায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে গড়িয়াহাট থানায় লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেন অভিযোগকারী। টের পেয়েই গা-ঢাকা দেয় অরুণাভ। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে নিজের মোবাইলে টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করার বিশেষ অ্যাপ ডাউনলোড করে টানা এক বছর ধরে তদন্তকারী অফিসারের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল সে। অবশেষে তাঁর কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ করে রবিবার মুকুন্দপুরের নয়াবাদ থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য প্রতারণা চক্রে যুক্ত থাকা অন্য অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে গড়িয়াহাট থানা।