নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ এক মাস ধরে ফাঁকা পতি পদ! সভাধিপতি না থাকায় পদে পদে স্তব্ধ হয়ে পড়ছে প্রশাসনিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ— এই গুরুতর অভিযোগে তোলপাড় শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ। চরম পরিকাঠামোগত এই প্রশাসনিক সংকট সামাল দিতেই আজ, মঙ্গলবার মহকুমা পরিষদে ডাকা হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ সাধারণ সভা। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আজকের এই জরুরি সভাতেই বর্তমান বোর্ড ভেঙে দিয়ে সরকারি প্রশাসক (Administrator) বসানোর মতো কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। অথবা রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তন ঘটিয়ে বর্তমান বোর্ডকে বিজেপির হাতে ন্যস্ত করা নিয়ে নানা জল্পনা ও জোরচর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তবে সমস্ত অভিযোগ ও জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সহকারী সভাধিপতি রোমারেশমি এক্কা জানান, “আজকের সভায় পরিষদের নিজস্ব তহবিল, পঞ্চদশ অর্থকমিশনের টাকায় রূপায়িত একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পর্যালোচনা সহ প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। আমি কোনো অবস্থাতেই দায় এড়িয়ে পালিয়ে যেতে চাই না, তাই পদত্যাগ করার প্রশ্নই উঠছে না।”
উল্লেখ্য, প্রায় এক মাস আগে মহকুমা পরিষদের তৎকালীন সভাধিপতি ও তৃণমূল নেতা অরুণ ঘোষ পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দেন। আইন অনুযায়ী সভাধিপতির পদটি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসি (OBC)-দের জন্য সংরক্ষিত। কিন্তু বর্তমানে পরিষদে নির্বাচিত কোনো ওবিসি সদস্য না থাকায় নতুন করে সভাধিপতি নির্বাচনের আইনি উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে জটিলতা কাটাতে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের কাছে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ ও আইনি মতামত চেয়েছে জেলা প্রশাসন।
পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিষদের সদস্যরাও। বর্তমানে পরিষদে থাকা তৃণমূলের সাতজন এবং বিজেপির একজন সদস্য মাঝে মধ্যে অফিসে এলেও প্রশাসনিক কাজ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সদস্যরা জানান, ইতিপূর্বে নির্বাচিত দুই ওবিসি সদস্যের মধ্যে একজনের আকস্মিক মৃত্যু হয় এবং অন্যজন অর্থাৎ অরুণবাবু ইস্তফা দেওয়ার পর আর স্বপদে ফিরতে রাজি নন। এর ফলে পরিষদে তৈরি হয়েছে গভীর আইনি ও প্রশাসনিক সাংবিধানিক সংকট। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পঞ্চায়েত আইন সংশোধনের দাবিও তুলেছেন অনেকে। আজকের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে পরিষদের ৮ জন নির্বাচিত সদস্য ছাড়াও ৪টি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, এলাকার ২ জন বিধায়ক এবং স্থানীয় সাংসদকেও তলব করা হয়েছে। সভার পর শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সব মহলের।