নিউজ ডেস্ক: একই গ্রাম, একই পাড়া— অথচ ভোটের লাইনে দাঁড়ালে পড়শিরা হয়ে যান আলাদা বিধানসভার ভোটার। পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলার সীমান্তে অবস্থিত মণিহারা গ্রাম যেন এক ভৌগোলিক বিস্ময়। গ্রামের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া চওড়া রাস্তাটিই এখানে লক্ষ্মণরেখা। রাস্তার এক ধারের বাসিন্দারা পুরুলিয়ার কাশীপুর বিধানসভার অন্তর্ভুক্ত, আর অন্য ধারের বাসিন্দারা বাঁকুড়ার ছাতনা বিধানসভার। ভোটের মরসুমে এই গ্রামেই এখন ধরা পড়ছে রাজনীতির এক অদ্ভুত কোলাজ।
মণিহারা গ্রামে প্রায় ২০০ পরিবারের বাস। আশ্চর্যের বিষয় হলো, গ্রামের একদিকের বাড়ির দেওয়ালে জ্বলজ্বল করছে কাশীপুর বিধানসভার তৃণমূল বা বিজেপি প্রার্থীর নাম, আর ঠিক উল্টো দিকের দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে ছাতনা বিধানসভার প্রার্থীদের প্রচার। বামেরা আবার এক ধাপ এগিয়ে; একই দেওয়ালে দুই জেলার দুই প্রার্থীর নাম লিখে প্রচার সারছে। পরিষেবার ক্ষেত্রেও এখানে ফারাক চোখে পড়ার মতো। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের সৌজন্যে রাস্তার একদিকের মানুষ পাইপলাইনের জল পেলেও, পুরুলিয়ার দিকের বাসিন্দাদের কল এখনও শুকনো। ফলে বাঁকুড়ার জলের ওপরই ভরসা করতে হয় গোটা গ্রামকে।
গ্রামের ধর্মতলা বাস স্ট্যান্ড থেকেই মূলত এই বিভাজন শুরু। বাঁকুড়ার বাসিন্দাদের কাছে এই বিভাজন নেহাতই সরকারি নথির। গ্রামের পোস্ট অফিস বা স্কুল একটাই, কিন্তু জমিজমা বা আইনি সমস্যায় পড়লেই ছুটতে হয় আলাদা জেলা সদরে। কেউ ভোট দেন মণিহারা বুথে, কেউ আবার ধবন গ্রাম পঞ্চায়েতের জোড়থোল বুথে। দুই জেলার প্রার্থীরাই এই গ্রামে এসে সমানতালে প্রচার চালাচ্ছেন। সীমান্ত ঘেঁষা এই ‘বাই-ডিস্ট্রিক্ট’ গ্রামে গণতন্ত্রের উৎসবও তাই পালিত হয় দ্বিগুণ উৎসাহে। -প্রতীকী ছবি