নিউজ ডেস্ক: ভোট গণনা মধ্যপথে পৌঁছানোর আগেই যখন বাংলায় পালাবদল নিশ্চিত হয়ে যায়, ঠিক সেই সময় থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় ব্যাপক রাজনৈতিক হিংসা। গণনাকেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় দলীয় কার্যালয় দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।
বারাকপুরেও পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেখানে দুই তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারী ও তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। হামলায় সুবোধবাবুর মুখ ফেটে যায়। যদিও বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের দাবি, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল। আসানসোলে গণনাকেন্দ্রের বাইরে থাকা তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসে ভাঙচুর চালালে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠিচার্জ করতে হয়। জামুড়িয়া ও বারাবনিতে তৃণমূলের কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
হিংসার আঁচ থেকে বাদ পড়েনি মেদিনীপুর ও নন্দীগ্রামও। মেদিনীপুর শহরের তৃণমূল জেলা অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিজেপি কর্মীরা। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া এবং কাঁথির কাখুরিয়ায় গাড়ি ও দলীয় অফিস ভাঙচুরের খবর পাওয়া গিয়েছে। বীরভূম, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের ইটাহারেও তৃণমূল কর্মীদের বাড়ি ও দোকানপাটে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
সন্ধ্যায় খাস কলকাতাতেও আছড়ে পড়ে অশান্তির ঢেউ। ইএম বাইপাসের রুবি মোড়ে বড়ো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সুশান্তর দাবি, প্রায় ৭০ জন কর্মীর বাড়িতে হামলা হয়েছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন, তবুও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সংঘর্ষের খবর গণতন্ত্রের উৎসবে রক্তক্ষয়ী ছায়া ফেলেছে।