নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল বহরমপুর। দীর্ঘ কয়েক দশকের একচ্ছত্র আধিপত্য হারিয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হলেন পাঁচবারের প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেসের অন্যতম মুখ অধীর চৌধুরী। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বহরমপুর বিধানসভা আসনটি নিজেদের দখলে রাখল বিজেপি। বিজেপির সুব্রত মৈত্র প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে অধীর চৌধুরীকে পরাজিত করে জয়ের ধারা বজায় রাখলেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত পাওয়া নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সুব্রত মৈত্র পেয়েছেন ৯০,৩৭০ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কংগ্রেসের অধীর চৌধুরীর ঝুলিতে গিয়েছে ৭২,৮৮৫ ভোট। এই কেন্দ্রে কার্যত লড়াইয়ের ময়দান থেকে হারিয়ে গিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছেন তৃণমূলের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। লোকসভা নির্বাচনে ইউসুফ পাঠানের কাছে হারের পর বিধানসভা ভোটে জিতে রাজনীতির ময়দানে প্রত্যাবর্তনের যে চেষ্টা অধীরবাবু করেছিলেন, বহরমপুরের মানুষ তাতে সায় দিলেন না।
জয়ের পর উচ্ছ্বসিত সুব্রত মৈত্র বলেন, “বহরমপুরের মানুষ নরেন্দ্র মোদিকে চেয়েছিলেন। এই জয় মোদিজির জয় এবং আমাদের সকল কর্মীর পরিশ্রমের ফল। অধীরবাবু অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হয়েও মানুষের পালস বুঝতে পারেননি। বহরমপুরের মানুষ তাঁর মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছেন।” তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূলকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। ওরা এখন পাতে দেওয়ার যোগ্যও নেই।” একই সঙ্গে বাতিল হওয়া ২৬ হাজার চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে যোগ্যদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
অধীর চৌধুরীর এই হার মুর্শিদাবাদের কংগ্রেসের রাজনীতিতে এক বড়সড় ধাক্কা। যে বহরমপুরকে একদা ‘অধীর গড়’ বলা হতো, সেখানে পদ্ম শিবিরের এই দাপুটে জয় রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবর্তনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হিসেবে ধরা দিয়েছে।