নিউজ ডেস্ক: ভোট করাতে যাবেন অন্যকে, অথচ নিজেদের ভোটদান নিয়েই চরম অনিশ্চয়তা! পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে না পেরে সোমবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বহরমপুরের জেলাশাসকের দপ্তর। প্রশিক্ষণের দিন ভোট দিতে না পারা থেকে শুরু করে মহকুমাস্তরে বিভ্রান্তি— একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখালেন ভোটকর্মীদের একাংশ। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের সমন্বয় নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই ভোটকর্মীদের ভোটাধিকার হরণ নিয়ে সরব হয়েছেন রাজনৈতিক প্রার্থীরাও।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। বহরমপুরের এই ভোটকর্মীদের দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণের দিনই পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ মেলেনি। অভিযোগ, চারদিন ঘোরার পর সোমবার সকালে কৃষ্ণনাথ কলেজিয়েট স্কুলে লাইনে দাঁড়ালেও শেষ মুহূর্তে তাঁদের জানানো হয়, নিজের নিজের মহকুমায় গিয়ে ভোট দিতে হবে। এতেই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। জেলাশাসকের দপ্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন হাজির হন বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। তাঁর প্রশ্ন, “ভোটকর্মীরাই যদি ভোট দিতে না পারেন, তবে এই নির্বাচনের মূল্য কোথায়?”
অন্যদিকে, বহরমপুরের ঘটনা নিয়ে সরাসরি দিল্লির মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, শাসকদল পরিকল্পিতভাবে পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে এবং সার্ভিস ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। একই ছায়া দেখা গিয়েছে ডোমকলেও। সেখানে রানিনগর বিধানসভার বিএলও-রা ভোট দিতে গিয়ে দেখেন, পোস্টাল ভোটার তালিকায় তাঁদের নামই নেই! বিএলও-দের আশঙ্কা, যেহেতু তাঁদের নামে ব্যালট ইস্যু হয়ে গিয়েছে, তাই বুথে গিয়ে ভোট দেওয়ার পথও বন্ধ। প্রশাসনের তরফে পরে কিছুজনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হলেও, সমস্ত ভোটকর্মীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে অনড় রয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।