নিউজ ডেস্ক: বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা হলো। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে (WB Election Result 2026) গেরুয়া ঝড়ে ঘাসফুল শিবিরের পতনের পর, পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে。
পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন ও অমিত শাহের ঘোষণা
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করা হয়। অমিত শাহ জানান:
-
পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে কেবলমাত্র একজনেরই নাম উঠে এসেছে এবং তিনি হলেন শুভেন্দু অধিকারী।
-
দলের নবনির্বাচিত বিধায়করা তাঁকে সর্বান্তকরণে সমর্থন জানিয়েছেন।
-
বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারীকে পদ্মফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন অমিত শাহ। এই সময় উপস্থিত ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরন মাঝি এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
শুভেন্দুর জয়যাত্রা: নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুর
২০২৬-এর এই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী কার্যত ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন:
-
তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
-
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ভবানীপুর কেন্দ্রে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনেও তিনি নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন।
শপথগ্রহণের প্রস্তুতি ও অঙ্গীকার
আগামী শনিবার সকালে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। এই মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে কলকাতায় এখন সাজ সাজ রব।
পরিষদীয় বৈঠকে অমিত শাহ অঙ্গীকার করেন যে, স্বামী বিবেকানন্দ ও ঋষি অরবিন্দের আদর্শকে পাথেয় করে এই নতুন সরকার ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করবে। পাশাপাশি, রাজ্যে অনুপ্রবেশ এবং গরু পাচার সমূলে নির্মূল করার আশ্বাসও দেন তিনি।