নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও ব্যবসায়িক মহলে কার্যত বজ্রপাত। কমিশনের নয়া ফরমান— ভোটের আগে কোনো হোটেল বা লজে বাইরের কাউকে রাখা যাবে না। আর এই নির্দেশের জেরেই পাহাড় ও ডুয়ার্সে ঘুরতে আসা হাজার হাজার পর্যটক চরম বিপাকে পড়েছেন। আচমকা হোটেল ছাড়ার নির্দেশে পর্যটকদের পাশাপাশি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীরাও।
ভোটের সময় বহিরাগতদের আনাগোনা রুখতে কমিশন এই কড়াকড়ি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে পর্যটন সংগঠনগুলি একে ‘অমানবিক’ বলে দাবি করেছে। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল জানান, “আগে থেকে জানালে পর্যটকদের সতর্ক করা যেত। এখন যাঁরা অনেক টাকা খরচ করে ডুয়ার্স বা পাহাড়ে এসেছেন, তাঁরা মাঝপথে কোথায় যাবেন? ট্রেনের টিকিটই বা পাবেন কীভাবে?” একই সুর শিলিগুড়ির হোটেল মালিক সংগঠনের গলাতেও। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ এসে অবিলম্বে হোটেল খালি করার নির্দেশ দিচ্ছে, যা ব্যবসার অপূরণীয় ক্ষতি করছে।
ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, কেবল পর্যটক নয়, দক্ষিণবঙ্গ থেকে বহু মানুষ কাজের প্রয়োজনে উত্তরবঙ্গে এসে হোটেলে থাকেন। তাঁদের যদি এভাবে বের করে দেওয়া হয়, তবে নিরাপত্তা ও থাকার ব্যবস্থা কে করবে? পরিস্থিতি বিবেচনা করে কমিশনের কাছে ছাড়ের আবেদন জানানো হয়েছে। তবে কমিশন এখনও নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তরের শৈলশহর এবং অরণ্য-ঘেরা জনপদগুলিতে এখন কেবলই ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্ক।