নিউজ ডেস্ক: বিচ্ছিন্ন কিছু গোলমাল বাদ দিলে মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হলো প্রথম দফার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের দাবি, বৃহস্পতিবার বুথ চত্বরে ভোট প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনও বড় ঘটনা ঘটেনি। তবে কোন কোন বুথে পুনর্নির্বাচন (Repolling) হবে, তা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এবার কেবল প্রিসাইডিং অফিসারের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং ওয়েবকাস্টিংয়ের গোটা দিনের ভিডিও রেকর্ডিং খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রেকর্ডিং সংরক্ষণে কড়া নির্দেশ: এই নতুন নিয়ম কার্যকর করতে জেলাগুলোকে ইতিমধ্যেই বিশেষ নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কমিশন। ভোট মেটার পর বুথের সিসিটিভি বা ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরার এসডি কার্ড (SD Card) বুথে খোলা যাবে না। সেক্টর অফিসারের তত্ত্বাবধানে আস্ত ক্যামেরাটি ডিসিআরসিতে (DCRC) নিয়ে যেতে হবে। সেখানে অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারের উপস্থিতিতে কার্ড খোলা হবে এবং ভিডিও ডেটা সংরক্ষণ করা হবে। ক্যামেরা সম্পূর্ণভাবে না সরানো পর্যন্ত পোলিং পার্টি বা বিএলও কেউ বুথ ছাড়তে পারবেন না।
পিংলার ঘটনায় কড়া বার্তা: কমিশন ভোট প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন দাবি করলেও, পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার ৯ নম্বর বুথের ঘটনা অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সেখানে প্রিসাইডিং অফিসার-সহ গোটা টিম লাঞ্চ করতে বুথ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। সিইও মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, “পিংলার ঘটনার সম্পূর্ণ রেকর্ডিং আমাদের কাছে আছে। শুধু ওখানেই নয়, যে সমস্ত বুথে অভিযোগ উঠেছে, সেখানকার ভিডিও যাচাই করা হবে।” আজ, শুক্রবার থেকেই ভিডিও স্ক্রুটিনি বা রেকর্ডিং দেখার কাজ শুরু হচ্ছে।
পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা: কমিশন সূত্রে খবর, আজই সমস্ত প্রিসাইডিং অফিসারের জমা দেওয়া ‘১৭এ’ (17A) ফর্ম এবং ওয়েবকাস্টিং ডেটা মিলিয়ে দেখা হবে। যদি কোথাও বুথ জ্যামিং, ছাপ্পা ভোট বা ভোটকর্মীদের গাফিলতির প্রমাণ ভিডিওতে ধরা পড়ে, তবেই সেই বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রযুক্তির এই ব্যবহার ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের এক বড় হাতিয়ার হয়ে উঠল। এখন দেখার, ভিডিও পরীক্ষার পর কতগুলি বুথে পুনরায় ভোটের দামামা বাজে।