নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হতেই উত্তরবঙ্গের দুই গুরুত্বপূর্ণ জেলা মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। সোমবার মালদহ ও রায়গঞ্জে প্রশাসনিক বৈঠকের পর তাঁর স্পষ্ট বার্তা— কর্তব্যে সামান্য গাফিলতি দেখলেই কড়া পদক্ষেপ করবে কমিশন। একই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে দাগী অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ-প্রশাসনকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
এদিন সকাল ৯টা নাগাদ হেলিকপ্টারে মালদহ পৌঁছন সিইও। জেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ে সর্বদলীয় বৈঠকের পর ডিএম, এসপি এবং সমস্ত রিটার্নিং অফিসারদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। সিইও জানিয়েছেন, এবার প্রতিটি বুথের গতিবিধি সরাসরি মনিটর করতে বিধানসভা ভিত্তিক কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মাইক্রো অবজারভারদের নজরদারিতে চলা এই ‘ওয়েব কাস্টিং’ সরাসরি জেলা ও রাজ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে দেখা যাবে। অশান্তি দমনে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের আধিকারিকদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কুইক রেসপন্স টিম (QRT) সদাপ্রস্তুত থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
নিরাপত্তা বিন্যাস নিয়ে আগরওয়াল জানান, বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। রাজ্য পুলিশের কনস্টেবলরা কেবল বুথের বাইরে ভোটারদের লাইন সামলাবেন। এমনকি নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মীদেরও বুথে ঢুকতে হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে। মালদহ সফর সেরে উত্তর দিনাজপুরেও একই মেজাজে ধরা দেন সিইও। রায়গঞ্জ ও ইসলামপুর পুলিশ জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁর কড়া নির্দেশ— যে কোনও মূল্যে অবাধ ও ভীতিমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। ভোটের মুখে কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা রাজনৈতিক মহলে যেমন স্বস্তি এনেছে, তেমনই প্রশাসনিক মহলে তৈরি করেছে ব্যাপক তৎপরতা।