নিউজ ডেস্ক: অকাল বৃষ্টির জেরে এমনিতেই মাথায় হাত পড়েছিল চাষিদের। এবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপে হিমঘরে আলু ঢোকানো বন্ধ হতেই চরম সঙ্কটে পড়লেন জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি ব্লকের কয়েকশো কৃষক। লাইসেন্স ছাড়াই বেআইনিভাবে আলুর প্যাকেট মজুত করার অভিযোগে পূর্ব শিশুয়াবাড়ি গ্রামের একটি নতুন হিমঘর বন্ধ করে দিল প্রশাসন। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজারহাট মোড় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। কর্তৃপক্ষের প্রতারণার শিকার হয়ে কয়েক হাজার আলুর বস্তা নিয়ে মাঝরাস্তায় বিক্ষোভ দেখান সর্বস্বান্ত চাষিরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ময়নাগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী কাদোবাড়ি এলাকা থেকে প্রচুর কৃষক এদিন বন্ড নিয়ে আলুর প্যাকেট জমা দিতে এসেছিলেন। হিমঘর কর্তৃপক্ষের আশ্বাস ছিল, সোমবার থেকেই আলু রাখা যাবে। সেই মতো সকাল থেকে কাজ শুরু হলেও বেলা ১১টা নাগাদ প্রশাসনের নির্দেশে হঠাৎই আলু ঢোকানো বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কৃষকরা। এক ক্ষতিগ্রস্ত চাষির কথায়, “তিন হাজার বন্ড নিয়েছিলাম। খেত থেকে আলু তুলে গাড়ি ভাড়া করে এখানে নিয়ে এলাম, এখন শুনছি রাখা যাবে না। আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনও উপায় রইল না।”
অভিযোগ উঠেছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও সরকারি ছাড়পত্র ছাড়াই কৃষকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বন্ড বিলি করেছিল হিমঘর কর্তৃপক্ষ। জলপাইগুড়ি কৃষি বিপণন দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট হিমঘরের মালিক লাইসেন্সের আবেদন জানালেও এখনও ছাড়পত্র পাননি। ঘটনার পর থেকেই হিমঘর মালিক সঞ্জয় ঘোষ গা ঢাকা দিয়েছেন। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে নথি পাঠানোর কথা বললেও পরে মোবাইল বন্ধ করে দেন। প্রতারণার শিকার হওয়া কৃষকদের দাবি, অকাল বর্ষণে ফসলের দফারফা হওয়ার পর এখন দ্বিগুণ গাড়ি ভাড়ার বোঝা বইতে হচ্ছে তাঁদের। এই ঘটনায় হিমঘর কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন এলাকার মানুষ।