নিউজ ডেস্ক: এক নির্যাতিতা আদিবাসী মহিলার ন্যায়বিচারের দাবিতে আদিবাসী জনজাতির উত্তরকন্যা অভিযান ঘিরে বৃহস্পতিবার রণক্ষেত্র হয়ে উঠল শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ি এলাকা। বিক্ষোভরত জনতা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, জলকামান চালায় এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর। জানা গিয়েছে, এক আদিবাসী পরিবারের পৈত্রিক জমি অবৈধভাবে দখল ও হস্তান্তরের চেষ্টা করে দুই ব্যক্তি। পরিবারটি এর প্রতিবাদ করলে, এক ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী মহিলার ওপর নৃশংস শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। মারধরের জেরে ওই মহিলার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং গত ৮ জানুয়ারি তিনি অকাল প্রসব করেন। গর্ভাবস্থায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণেই জন্মের মাত্র তিন দিন পর নবজাতকের মৃত্যু হয় বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার দাবিতে এদিন উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দেয় আদিবাসী সংগঠনগুলি। অভিযান শুরু হতেই তিনবাত্তি মোড়ের কাছে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয়। কিন্তু উত্তেজিত জনতা সেই ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে, এরপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হলে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্র চেহারা নেয়। এ বিষয়ে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ‘পুলিশ উত্তরকন্যা অভিযানে জবরদস্তি বাধা দিয়েছে। লাঠিচার্জ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অশান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। আমরা ওই আদিবাসী মহিলার ওপর অত্যাচারের দ্রুত ন্যায়বিচার চাই।’