নিউজ ডেস্ক: অনলাইনে অর্ডার দেওয়া দামি স্মার্টফোন ক্রেতার হাতে পৌঁছনোর আগেই তা চলে যাচ্ছে খোলা বাজারে। ই-কমার্স সংস্থা ও ক্যুরিয়ার কোম্পানির ডেলিভারি বয়দের হাতযশেই চলছে এই রমরমা কারবার। সম্প্রতি নিউ আলিপুর থানার পুলিশ এই চক্রের হদিশ পেয়ে খিদিরপুর ও হাওড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এক দোকান মালিক-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। যদিও মূল অভিযুক্ত এক ডেলিভারি বয় এখনও পলাতক।
তদন্তে জানা গিয়েছে, জালিয়াতির সূত্রপাত গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর। নিউ আলিপুর এলাকার একটি ই-কমার্স সংস্থার অফিস থেকে ২৮টি দামি মোবাইল ফোন ভিন রাজ্যে পাঠানোর জন্য একটি নামী ক্যুরিয়ার সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। বিমান বন্দরে কাস্টমস চেকিংয়ের সময় প্যাকেটের ওজন কম হওয়ায় সন্দেহ দানা বাঁধে। এরপর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, যে ডেলিভারি বয় মোবাইলগুলি নিতে এসেছিল, সেই কৌশলে প্যাকেট খুলে হ্যান্ডসেটগুলি সরিয়ে ফেলেছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর ফেব্রুয়ারি মাসে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ই-কমার্স সংস্থাটি।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। খোয়া যাওয়া মোবাইলগুলির আইএমইআই (IMEI) নম্বর ট্র্যাক করে পুলিশ দেখে, সেগুলি ইতিমধ্যেই অনেকে ব্যবহার করছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, খিদিরপুর ও হাওড়ার নিশ্চিন্দা এলাকার বিভিন্ন দোকান থেকে তাঁরা এই ফোনগুলি কিনেছেন। এমনকি দোকানদাররা তাঁদের হাতে জাল ইনভয়েস বা ভাউচারও ধরিয়ে দিয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ডেলিভারি বয় এভাবেই আরও অন্তত ৩৮টি মোবাইল সেট খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে।
জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে, এই চক্রের পিছনে সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা কাজ করে। ডেলিভারি বয়রা মোবাইলগুলি সরানোর পর অফিসে গিয়ে মিথ্যে গল্প ফাঁদে যে, বহুতলে ডেলিভারি দিতে যাওয়ার সময় বাইক থেকে তাঁদের ব্যাগ চুরি হয়ে গিয়েছে। আসলে সেই ফোনগুলি অনেক কম দামে বিভিন্ন ছোট বড় দোকানে বেচে দেওয়া হয়। এরপর দোকান মালিকরা ভুয়ো নথি তৈরি করে সেই চোরাই ফোন সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বাজারমূল্যে বিক্রি করে দেয়। এই চক্রের সাথে আর কারা যুক্ত, তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।