নিউজ ডেস্ক: বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং জমি দখলের অভিযোগে ধৃত নির্মাণ ব্যবসায়ী জয় কামদারের পর এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর স্ক্যানারে বেহালার যিশু জৈন। বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি-র দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। জয় কামদারের ছায়া-সঙ্গী থেকে ব্যবসায়িক শত্রু— যিশুর এই বদলে যাওয়া সমীকরণকে হাতিয়ার করেই এবার জয়েব সাম্রাজ্যের গোপন তথ্য হাতড়াতে চাইছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।
কেন এই তলব? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, একটা সময় বেহালা, নিউ আলিপুর ও হরিদেবপুর থানা এলাকায় জয় কামদারের জমি দখল এবং হাওলা কারবারের নেপথ্যে যিশু জৈনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। জয় কামদারের ভুয়ো সংস্থা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন নিয়ে যিশুর কাছে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে বলে অনুমান ইডি আধিকারিকদের। দুই ব্যবসায়ীর পুরনো ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়েই জয়েব আর্থিক সাম্রাজ্যের হদিস পেতে মরিয়া গোয়েন্দারা।
ঘনিষ্ঠতা থেকে চরম তিক্ততা: যিশুর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, একটা সময় দু’জনের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে তা তলানিতে ঠেকেছে। যিশু শিবিরের অভিযোগ, জয়ের বেশ কয়েকটি প্রজেক্টে কাজ করার পর চুক্তিমতো কয়েক কোটি টাকা মেটানো হয়নি। এই বকেয়া টাকা নিয়ে জয় কামদারের বিরুদ্ধে পর্ণশ্রী থানায় মামলাও করেছেন যিশু। পাল্টাপাল্টি হিসেবে জয় কামদার নিজের পুলিশি সখ্যতাকে কাজে লাগিয়ে যিশুকে নিউ আলিপুর ও এন্টালি থানার একাধিক ‘মিথ্যা’ মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ।
তদন্তকারীদের নয়া কৌশল: ইডির ধারণা, দু’জনের সম্পর্কের এই চরম তিক্ততা তদন্তের ক্ষেত্রে ইতিবাচক হতে পারে। জয় কামদার কীভাবে আইপিএস অফিসারদের একাংশকে প্রভাবিত করতেন এবং জমি দখলের সিন্ডিকেট চালাতেন, শত্রুতা তৈরি হওয়ায় যিশু সেই সব তথ্য ফাঁস করে দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন নির্ধারিত সময়েই যিশু হাজিরা দেবেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে ইঙ্গিত মিলেছে। এখন দেখার, সিজিও কমপ্লেক্সে যিশুর বয়ান জয় কামদারের বিরুদ্ধে কত বড় অস্ত্র হয়ে ওঠে।