নিউজ ডেস্ক: একদিকে তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে ভোটের কাজের পাহাড়প্রমাণ চাপ— এই দুইয়ের বলি হলেন এক স্কুল শিক্ষক। শুক্রবার দুপুরে কালনার মহকুমা শাসকের (SDO) দপ্তরে বিএলও (BLO) হিসেবে কর্মরত থাকাকালীনই আকস্মিক মৃত্যু হলো পিন্টু সেনগুপ্ত (৫০) নামে এক শিক্ষকের। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে কালনা শহর ও শিক্ষা মহলে।
কাজের মাঝেই অসুস্থতা: মৃত পিন্টু সেনগুপ্ত পূর্ব বর্ধমানের কালনা ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পীরতলার বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় তিনি মধুবন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেও বর্তমানে নির্বাচনের কাজে বিএলও হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, এদিন কালনা মহকুমা শাসকের দপ্তরে বসে তাঁরা পোস্টাল ব্যালটের জরুরি কাজ করছিলেন। হঠাৎই পিন্টুবাবু গুরুতর অসুস্থ বোধ করেন।
গরম ও কাজের চাপের বলি? মৃতের সহকর্মী বিশ্বজিৎ সাহা আক্ষেপের সুরে জানান, “আমরা সবাই একসাথে বিডিও অফিসে কাজ করছিলাম। আজ প্রচণ্ড গরম ছিল, সাথে ছিল কাজের প্রবল চাপ। হঠাৎ পিন্টু অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাঁর হাত-পায়ে জল দিই, মাথায় জল ঢালি। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় এসডিও অফিসের গাড়িতে করেই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।” কালনা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শোকের ছায়া কালনায়: ভোটের মুখে এভাবে একজন কর্তব্যরত শিক্ষকের মৃত্যুতে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সহকর্মীদের দাবি, গরমে নাজেহাল অবস্থায় একটানা কাজ করার জেরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। পিন্টুবাবুর মতো একজন দক্ষ শিক্ষক ও নিষ্ঠাবান কর্মীর এমন আকস্মিক প্রয়াণে ভেঙে পড়েছেন তাঁর পরিবার ও সহকর্মী শিক্ষকরা। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং গোটা ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন কালনার প্রশাসনিক আধিকারিকরা।