নিউজ ডেস্ক: মালদহের গাজোলে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মহারণে নামার আগে এক তাৎপর্যপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ সারলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার বিকেলে তিনি সরাসরি পৌঁছে যান পদ্মশ্রী প্রাপক তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী কমলি সরেনের (গুরুমা) বাসভবনে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আদিবাসী সমাজের এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের হাতে উপহার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং আশ্রমের মন্দিরে পুজো দেন শুভেন্দু।
কোটাল হাটিতে কমলি সরেনের বাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান নন্দীগ্রামের বিধায়ক। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস, তাই সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ গুরুমার আশীর্বাদ নিতে এসেছি। দীর্ঘকাল ধরে তিনি এই আশ্রমে পিছিয়ে পড়া মানুষের নিরলস সেবা করছেন। আগামী দিনেও তাঁর এই লড়াইয়ের পাশে থাকার সবরকম চেষ্টা করব।”
তবে সৌজন্য সাক্ষাতের আবহ কাটতেই গাজোলের মাটি থেকে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়ান শুভেন্দু। উত্তরবঙ্গ সফরে আসা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া নিন্দা করে তিনি বলেন, “কালকের ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা নেই। এই সরকার স্পষ্টতই আদিবাসী বিরোধী।”
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর চার তোপ:
-
ভুয়ো শংসাপত্র: রাজ্যে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো তফশিলি উপজাতি (ST) সার্টিফিকেট বিলি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
-
অধিকার হরণ: আদিবাসীদের জল-জঙ্গল-জমির অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের দেওয়া সাংবিধানিক সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু।
-
সংরক্ষণ বিতর্ক: বর্তমান সরকারের জমানায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে এসসি ও এসটিদের জন্য কোনও নির্দিষ্ট সংরক্ষণ নীতি নেই বলে তোপ দাগেন তিনি।
-
কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাধা: প্রধানমন্ত্রী মোদী সারা দেশে ‘একলব্য স্কুল’ ও ‘আদর্শ গ্রাম’ করতে চাইলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা কার্যকর করতে দিচ্ছে না বলে তাঁর অভিযোগ।
শুভেন্দু অধিকারী আরও একধাপ এগিয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “এই সরকার পশ্চিমবঙ্গকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানাতে চাইছে। কিন্তু মানুষ এই ষড়যন্ত্র ধরে ফেলেছে। এবারের নির্বাচনে ব্যালটেই এর যোগ্য জবাব দেবে সাধারণ মানুষ।” কমলি সরেনের বাড়ি থেকে বেরিয়েই তিনি গাজোলে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র কর্মসূচিতে যোগ দিতে রওনা হন।